ওষুধেও শুল্ক চাপানোর ইঙ্গিত ট্রাম্পের, ভারতীয় ওষুধ সংস্থাগুলির উপর বড় প্রভাবের আশঙ্কা

অটোমোবাইল শিল্পের পর এবার ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফের খাঁড়া নেমে আসতে পারে। শুক্রবার এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। যদিও কবে থেকে এবং কত শতাংশ শুল্ক ফার্মা পণ্যের উপর চাপানো হবে, তা স্পষ্ট করেননি। তবে শীঘ্রই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফার্মা সেক্টরে ট্রাম্পের শুল্ক বসালে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির উপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ট্রাম্পের ট্যারিফ ঘোষণার জেরে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা গাড়ির উপর ইতিমধ্যেই ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপানোর ঘোষণা করেছেন তিনি। আগামী ২ এপ্রিল বিভিন্ন সেক্টরের একাধিক পণ্যের উপর ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ’ (পারস্পরিক শুল্ক) ঘোষণা করতে পারেন ট্রাম্প। সেই তালিকায় যে বিদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধও থাকবে, সেই ইঙ্গিত শুক্রবার তিনি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, ‘আমাদের দেশে আসা ড্রাগস এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর উপর নির্দিষ্ট সংখ্যা ধার্য হবে। কোভিডের সময় আমরা যেমন ছিলাম, তেমন নির্ভরশীল আমরা অন্য দেশের উপর থাকতে চাই না।’ এর পাশাপাশি, ট্যারিফ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করতেও রাজি আছেন ট্রাম্প। তবে ২ এপ্রিল রেসিপ্রোক্যাল ট্যারিফ ঘোষণার পরই তিনি সেই আলোচনা শুরু করতে চান।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা ওষুধের উপর ট্রাম্প যদি বড় অঙ্কের শুল্ক চাপান, তবে তা ভারতের ফার্মা কোম্পানিগুলির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। কারণ জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিতে ভারত বিশ্বজুড়ে প্রথম সারিতে অবস্থান করে। বিশ্বের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ আসে ভারত থেকে। ভারতের বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা প্রায় ২০০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। আমেরিকার জেনেরিক ওষুধের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে, যার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশই আসে ভারত থেকে। এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যালায়েন্স (আইপিএ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল সুদর্শন জৈন বলেছেন, ‘আমেরিকায় উচ্চমানের, প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ বজায় রাখতে ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ওষুধের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য উভয় দেশের পক্ষেই এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

ট্রাম্প যদি ওষুধের উপর মোটা অঙ্কের শুল্ক চাপান, তবে তার প্রভাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে, কারণ সেখানে ওষুধের দাম বাড়বে। পাশাপাশি, ভারতের কোম্পানিগুলির ব্যবসাও বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। এই আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরেই ভারতের ফার্মা কোম্পানিগুলির শেয়ারের দামে পতন দেখা যাচ্ছে। নিফটি ফার্মা সেক্টরাল ইনডেক্স শুক্রবার ০.৬৫ শতাংশ কমে ২১ হাজার ১৩৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গত এক সপ্তাহে এই সূচক প্রায় ২.২৬ শতাংশ কমেছে। বাজার বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী সপ্তাহে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।