পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ‘ন্যাক’ স্বীকৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ, পিছিয়ে পড়ছে রাজ্য: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের মন্তব্য

উচ্চশিক্ষায় ‘ন্যাশনাল অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল’ (ন্যাক) এর স্বীকৃতির জন্য দেশের বিভিন্ন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু, অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গ এই ক্ষেত্রে লক্ষ্যণীয়ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ডঃ সুকান্ত মজুমদার এবং বিজেপি নেতা অমিত মালব্য রাজ্যে উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

অমিত মালব্য বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে উচ্চশিক্ষার এই অবস্থা—১,০০০-এরও বেশি কলেজে ন্যাক স্বীকৃতি নেই। রাজ্যে ১,৫১৪টি কলেজ এবং ৫৮টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, তবে মাত্র ৫১৪টি কলেজ এবং ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর মানে, ১,০০০টি কলেজ এবং ৩৮টি বিশ্ববিদ্যালয় স্বীকৃতির বাইরে রয়েছে, যা উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।”

ডঃ সুকান্ত মজুমদারও একই রকম শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এবং তিনি জানিয়েছেন যে ন্যাক-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তামিলনাডু এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি যথাক্রমে সেরা অবস্থানে রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ, যেখানে মোট ১,৫১৪টি কলেজ রয়েছে, সেখানে মাত্র ৫০১টি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাক স্বীকৃতি পেয়েছে, যা দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই কম।

তবে, এর পেছনে কী কারণ? শিক্ষাবিদদের মতে, ন্যাক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। চন্দননগর কলেজ শিক্ষা সংসদের সভাপতি রূপন পাঁজা জানান, ‘ন্যাক’ এর স্বীকৃতি প্রক্রিয়ার মধ্যে কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান কারণ হলো স্নাতকস্তরে ‘অ্যাড অন’ পাঠ্যক্রমের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি। তিনি বলেন, “এটি শিক্ষার্থীদের মূল বিষয়ক অনার্স ক্লাসের সংখ্যা কমিয়ে দেয়।” এছাড়াও, ইউজিসির গবেষণা প্রকল্পের অর্থ বন্ধ হওয়া এবং জার্নালের তালিকা পরিবর্তনের কারণে কলেজগুলো ন্যাকার পয়েন্ট তুলতে ব্যর্থ হচ্ছে।

একইভাবে, রাজ্যের কলেজগুলোতে অনেক জায়গায় অধ্যক্ষের অভাব এবং অবকাঠামোগত উন্নতির অভাবের কারণেও ন্যাক মূল্যায়ন ভালো হচ্ছে না। কলকাতার চিত্তরঞ্জন কলেজ এবং বঙ্গবাসী কলেজ এর উদাহরণ দেখিয়ে শ্যামলেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানান, উপযুক্ত কাঠামোর অভাবে কিছু কলেজ ন্যাক মূল্যায়ন পায়নি, তবে কিছু কলেজ অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে উন্নতি করেছে।

এই পরিস্থিতিতে অমিত মালব্য বলেন, “আকাদেমিক উৎকর্ষতা নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সুযোগ বৃদ্ধি করতে ন্যাক স্বীকৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কলেজগুলির সহায়তায় ফি মকুব করছে এবং বিশেষ কর্মশালা আয়োজন করছে। তবুও, এতগুলো কলেজ কেন এখনও স্বীকৃতি পায়নি, তা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করা হয়েছে।”

এদিকে, রাজ্যের শিক্ষাবিদদের একাংশ দাবি করেছেন, রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা খাতে বরাদ্দ, নতুন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলার মাধ্যমে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, রাজ্য সরকারের তরফে আরও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে স্বীকৃতির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা উচিত, বলছেন তারা।

এই পরিস্থিতিতে ন্যাক স্বীকৃতি প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দিকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।