ভারত বনাম বাংলাদেশ: সুনীল ছেত্রীকে থামাতে চ্যালেঞ্জ, হামজা চৌধুরী নিয়ে নতুন আশা

এএফসি এশিয়ান কাপ ২০২৭ যোগ্যতা অর্জনের (AFC Asian Cup 2027 Qualifiers) পর্বে আজ ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ। ম্যাচটি শিলং স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে, এবং সবার চোখ থাকবে ভারতীয় ফুটবল দলের কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রীর দিকে। তবে বাংলাদেশের সামনে এবার এক পরিচিত চ্যালেঞ্জ: ছেত্রীকে থামানো।
ছেত্রীর অসাধারণ রেকর্ড
ভারতের ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রী বাংলাদেশের বিপক্ষে গত এক দশকে অসাধারণ পারফর্মেন্স দিয়ে এসেছেন। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোতে ছেত্রী বাংলাদেশের জন্য অন্যতম দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠেছেন। ছয়টি ম্যাচে ছয়টি গোল নিয়ে ৪০ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত।
বিশেষত ২০১৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ৯৫তম মিনিটে একটি নাটকীয় গোল করে ছেত্রী ভারতকে ড্র এনে দেন। পরবর্তী বছর একক প্রীতি ম্যাচে দুটি গোল করে তিনি আবারও বাংলাদেশের আশা নষ্ট করেন। ২০২১ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বে, ৭৯তম মিনিটে এবং অতিরিক্ত সময়ে আরও দুটি গোল করে ভারতের জয়ের পথ সুগম করেন। বাংলাদেশ বিপক্ষে ছেত্রীর পারফরম্যান্স সবসময় ছিল অভাবনীয় এবং দলের জয়ের গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
হামজা চৌধুরীর আগমন: নতুন শক্তি
এবারের ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে বিশেষভাবে নজর কাড়ছেন প্রিমিয়ার লিগের মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। শেফিল্ড ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার, যিনি আগে লেস্টার সিটিতে খেলতেন, বাংলাদেশের বংশোদ্ভূত। হামজার বাংলাদেশ দলে যোগদান টাইগার্সদের মধ্যে নতুন আশা এবং শক্তি নিয়ে এসেছে। প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞতা তাকে কৌশলগত দক্ষতা এবং শারীরিক শক্তি দিয়েছে, যা বাংলাদেশকে ভারতের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে সক্ষম করবে।
হামজার খেলার স্টাইল, যা মূলত দ্রুত গতি এবং শক্তিশালী মিডফিল্ড পারফরম্যান্সের উপর নির্ভরশীল, ভারতীয় আক্রমণের তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তার দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণ এই ম্যাচে সুনীল ছেত্রীকে থামানোর জন্য বড় ভূমিকা নিতে পারে। বিশেষ করে ছেত্রীকে তার সাপ্লাই লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে হামজা বাংলাদেশকে ভারতের আক্রমণাত্মক হুমকি মোকাবেলা করতে সাহায্য করতে পারে।
এখন প্রশ্ন: ছেত্রীকে থামাতে পারবে বাংলাদেশ?
বাংলাদেশের জন্য ছেত্রী একটি অবিরাম দুঃস্বপ্ন, তবে হামজার সঙ্গে তাদের এখন একটি নতুন শক্তি রয়েছে। ছেত্রীকে থামানো কখনও সহজ ছিল না, তবে হামজা চৌধুরী তার আক্রমণাত্মক গতি এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ মিডফিল্ড পারফরম্যান্স দিয়ে এই ম্যাচে নতুন গতিশীলতা আনার চেষ্টা করবেন। ২৫ মার্চ এই ম্যাচটি শুধু কোয়ালিফায়ার পয়েন্টের জন্য নয়, এটি হবে বাংলাদেশ ছেত্রীর অভিশাপ থেকে মুক্তি পায় কিনা এবং হামজার নেতৃত্বে এক নতুন যুগের সূচনা ঘটে কিনা, তা দেখার মুহূর্ত।
বাংলাদেশের নতুন আশা হামজা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই ম্যাচটি তাদের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। তাদের জন্য এটি একটি সোনালী সুযোগ, যা হয়তো এক দশকেরও বেশি সময় পর ছেত্রীর হুমকিকে শেষ করতে পারে।