“পুলিশ শারীরিকভাবে হেনস্থা করেছে”-শরীরে ‘ক্ষত’ দেখিয়ে দাবি করলেন শুভেন্দু অধিকারী

হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় চলমান পানীয় জলের তীব্র সঙ্কটের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে শারীরিক হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকালে বেলগাছিয়ার দুর্গত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। শুভেন্দু জানিয়েছেন, পুলিশ শুধু তাঁকে বাধা দেয়নি, বরং তাঁর উপর শারীরিক নিগ্রহও করেছে। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় তাঁর হাতে আঁচড়ের চিহ্ন রয়েছে এবং তিনি আহত হয়েছেন।

শুভেন্দু অধিকারী, যিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান নেতা এবং রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, সোমবার হাওড়ার বেলগাছিয়ায় জল সঙ্কটে জর্জরিত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়ার জন্য পুলিশ জোর করে ধাক্কাধাক্কি করে এবং তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। “আমি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে আটকে দেয় এবং মারধর করে। আমার হাতে আঁচড়ের দাগ রয়েছে, যা এই নিগ্রহের প্রমাণ,” বলেন শুভেন্দু।

হাওড়ার বেলগাছিয়া সহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জলের সঙ্কট চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু অধিকারী ক্ষতিগ্রস্তদের সমর্থনে এগিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁর দাবি, পুলিশের হস্তক্ষেপে তিনি সেখানে পৌঁছতে ব্যর্থ হন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন যে, রাজ্য সরকার জল সঙ্কটের সমাধান না করে বিরোধীদের কণ্ঠ রোধ করতে পুলিশের শক্তি প্রয়োগ করছে। “এটা গণতন্ত্রের উপর আঘাত। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের সমস্যা দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছে। এর বিরুদ্ধে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব,” বলেন তিনি।

অন্যদিকে, পুলিশ এখনও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের দাবি, শুভেন্দুকে আটকানো হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য। এই ঘটনার পর বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে এবং তারা এর প্রতিবাদে রাস্তায় নামার পরিকল্পনা করছে বলে খবর।

হাওড়ার জল সঙ্কট নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের সমালোচনা তীব্র হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর উপর কথিত হামলার ঘটনা এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আগামী দিনে এই ঘটনা রাজনৈতিকভাবে কী মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে সবাই।