“বাংলাকে টার্গেট করে ভোট লুঠ!”-BJP-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার

রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে—এই গুরুতর অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে তৃণমূলের বিধায়ক ও কর্মীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা চলছে।

কী বললেন মমতা? তৃণমূল নেত্রীর দাবি, তৃণমূলের প্রায় আড়াই হাজার পার্টি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে। দলীয় কর্মীদের মিছিল বা মিটিং করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমাদের বিধায়কদের পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, তৃণমূলের মিটিংয়ে গেলে অস্ত্র মামলা কিংবা গাঁজা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। ইডি-সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে আমাদের বিধায়কদের ভাঙার চেষ্টা করছে বিজেপি। এই ধরনের অত্যাচার গণতন্ত্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন।”

নির্বাচনী ফলাফল নিয়েও ক্ষোভ নির্বাচন চলাকালীন কারচুপির প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “বাংলাকে টার্গেট করে হারানো হয়েছে। ভোট লুঠের মাধ্যমে আমার জয় আটকাতে চক্রান্ত করা হয়েছিল। আমি তখন ১৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম।” তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রশাসনিক চাপে রেখে পুরো বাংলাকে গ্রাস করতে চাইছে বিজেপি।

প্রতিবাদের ডাক রাজ্যজুড়ে এই ‘অরাজকতা’ ও দলের ওপর ক্রমাগত আক্রমণের প্রেক্ষিতে তৃণমূল নেত্রী রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করেছেন। মমতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভয় দেখিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করা যাবে না। দলের প্রতিটি স্তরের কর্মীকে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলার পর থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ফেসবুক লাইভ এবং এরপর তাঁর রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য দলের অন্দরে মনোবল ফেরানোর পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের ওপর পাল্টা চাপের কৌশল হিসেবে দেখছেন অনেকে।