বেলগাছিয়া: জলসংকটের পাশাপাশি অস্তিত্ব সংকটে স্থানীয়রা, ফিরহাদ হাকিমের আশ্বাস

বেলগাছিয়া, হাওড়া – প্রায় চার দিন ধরে চলতে থাকা বিপর্যয়ের মধ্যে এখন আতঙ্ক ও উদ্বেগ বেড়ে গেছে। একদিকে জলসংকট, অন্যদিকে বসবাসের নিরাপত্তাহীনতা, এই সমস্যাগুলি এখন বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের জীবনকে চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। বিশেষত, ভাগাড়ের কাছে ধ্বস নামার পর থেকে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এলাকার বাসিন্দারা এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছেন।
বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের দাবি: পুনর্বাসন এবং নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা
শুক্রবার সকালে হাওড়ার ভাগাড় অঞ্চলে মেরামতির কাজ চলাকালীন হঠাৎ ধ্বস নামায়, আর তার ফলস্বরূপ ফেটে যায় পানীয় জল পাইপলাইন। যার ফলে আগেই চলছিল জলসংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বেলগাছিয়া, লিলুয়া, সি রোড, বি রোড-সহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলসংকট দেখা দেয়। এর পাশাপাশি, ভাগাড়ের ধ্বসের কারণে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কংক্রিটের রাস্তা ভেঙে ১০ ফুট উঁচু হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন, কারণ তাদের ভয় ছিল যে তারা হয়তো এলাকা থেকে উচ্ছেদ হয়ে যেতে পারেন। তাদের আশঙ্কা আরও বাড়ে যখন প্রশাসনিক কর্তারা এসে তাদের কাগজপত্র দেখতে চায়। এই পরিস্থিতিতে বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
ফিরহাদ হাকিমের আশ্বাস: তিন দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান
পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বেলগাছিয়া এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান করা হবে। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “এই সমস্যা মেটাতে তিন-চার দিন সময় লাগবে। বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং পৌরসভা চিরকালই ঘর প্রদান করেছে।” তবে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে, পুনর্বাসন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না, বরং রাজ্য সরকারের নিজস্ব ফান্ডে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
পুরমন্ত্রী আরও বলেন, “ওরা (কেন্দ্র) মাটির ভারসাম্য ধরে রাখতে পারছে না, তাই আমাদের নতুন কিছু চিন্তা করতে হবে। আজ অফিসে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যাবে।”
স্থানীয়দের হুঁশিয়ারি: নবান্ন ঘেরাও
ফিরহাদ হাকিমের আশ্বাসের পর কিছুটা স্বস্তি পেলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ কমেনি। এক বাসিন্দা বলেন, “তিনি আমাদের তিন দিন সময় দিয়েছেন। আমরা দেখিয়ে দেব, যদি তিন দিনের মধ্যে কিছু না হয়। এরপর আমরা রাস্তায় বসে প্রতিবাদ করব, নবান্ন ঘেরাও করব। আমাদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে।”
এখন প্রশ্ন উঠে দাঁড়িয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে এই সংকটের সমাধান হবে কি না এবং বেলগাছিয়ার বাসিন্দাদের নিরাপদ পুনর্বাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যাবে কি না। এই মুহূর্তে বেলগাছিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক, এবং সব দৃষ্টি এখন রাজ্য সরকারের প্রতিশ্রুতি ও পদক্ষেপের দিকে।