৯৩ বছর বয়সেও অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয়, পানা দেবীর অসাধারণ কীর্তি

৯৩ বছর বয়সে সাধারণত মানুষ শয্যাশায়ী থাকেন বা ঘরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ জীবনযাপন করেন। কিন্তু রাজস্থানের বিকানেরের বাসিন্দা পানা দেবী গোদারা এই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন। তিনি শুধু মাঠে নামেনই না, বরং অ্যাথলেটিক্সে সোনার পদক জিতেছেন। সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত ৪৫তম ন্যাশনাল মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পানা দেবী শট পাট, ডিসকাস থ্রো এবং ১০০ মিটার দৌড়ে ৩টি স্বর্ণপদক জিতেছেন।

পানা দেবীর অসাধারণ কীর্তি
পানা দেবীর এই সাফল্য শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, বরং এটি একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তিনি আগামী আগস্ট মাসে সুইডেনে অনুষ্ঠিত হতে চলা ওয়ার্ল্ড মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। তাঁর লক্ষ্য সেখান থেকে সোনার পদক জয় করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা। এছাড়াও, সেপ্টেম্বরে ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান মাস্টার্স অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও তিনি ভারতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

প্রতিদিনের জীবনযাত্রা
পানা দেবী শুধু অ্যাথলেটিক্সেই নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনেও অত্যন্ত সক্রিয়। তিনি বাড়িতে গরু ও মহিষের দেখভাল করেন এবং সারাদিন কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। তাঁর এই কর্মঠ জীবনযাত্রা এবং সুস্বাস্থ্য সকলের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

বয়স শুধু একটি সংখ্যা
পানা দেবী প্রমাণ করেছেন যে বয়স শুধুমাত্র একটি সংখ্যা মাত্র। তাঁর মতে, ইচ্ছাশক্তি, নিয়ম মেনে জীবনযাপন এবং কঠোর অধ্যবসায়ই সাফল্যের চাবিকাঠি। তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে অনুশীলন করেন এবং নিজেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট রাখেন।

শেষ কথা
পানা দেবীর এই অসাধারণ কীর্তি শুধুমাত্র ক্রীড়া জগতেই নয়, বরং সমগ্র দেশের জন্য একটি অনুপ্রেরণার গল্প। তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স কোনো বাধা নয়, যদি থাকে দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং অধ্যবসায়। আগামী দিনে সুইডেন ও ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর সাফল্য সকলের জন্য গর্বের বিষয় হবে।

৯৩ বছর বয়সেও অ্যাথলেটিক্সে সোনা জয়, পানা দেবীর অনুপ্রেরণাময় যাত্রা।