“জঙ্গি দেখলেই কপালে গুলি মারব”-রাজ্যসভায় দেশের ‘৩ ক্ষত’ গোনালেন অমিত শাহ

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় দেশ নানা সমস্যার সম্মুখীন ছিল। জাতীয় নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সার্বভৌমত্ব ক্রমাগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছিল। রাজ্যসভায় এমনটাই বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, ‘তিনটি বড় ঘা ছিল দেশের সামনে। প্রথমত, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ, দ্বিতীয়ত, বামপন্থী উগ্রবাদ—যারা তিরুপতি থেকে পশুপতিনাথ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখত, এবং তৃতীয়ত, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সন্ত্রাস। এই তিন সমস্যার কারণে গত চার দশকে দেশের ৯২ হাজার নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অথচ এই সমস্যাগুলোর সমাধানে কখনও পরিকল্পিত প্রচেষ্টা করা হয়নি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদী ক্ষমতায় আসার পর এই কাজটি করেছেন।’
অমিত শাহ আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে সন্ত্রাসীরা প্রতিদিন কাশ্মীরে ঢুকে পড়ত। বোমা ফাটিয়ে মানুষ খুন করত। আগের কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব ছিল নমনীয়। তারা চুপ থাকত, কথা বলতে ভয় পেত। সম্ভবত ভোট ব্যাঙ্কের ভয়ে তারা নীরব থাকত। কিন্তু মোদী সরকার সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। আমরা ক্ষমতায় আসার পরও উরি ও পুলওয়ামার মতো হামলা হয়েছে। আগে এমন হামলার পর কিছুই করা হত না। কিন্তু আমরা ১০ দিনের মধ্যে পাকিস্তানে ঢুকে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ও এয়ার স্ট্রাইকের মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিয়েছি। বিশ্বে মাত্র দুটি দেশ ছিল, যারা তাদের সীমান্ত ও সেনাবাহিনীর জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকে। এখন সেই তালিকায় ভারতও যুক্ত হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘এই তিনটি সমস্যা দেশের শান্তি বিঘ্নিত করছিল। জাতীয় নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন উঠছিল, উন্নয়নের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু ও কাশ্মীরের যুবকদের সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রায় শেষ হয়ে গেছে। ১০ বছর আগেও সন্ত্রাসীদের মহিমান্বিত করা সাধারণ ছিল। তাদের জানাজা বেরোত। কিন্তু এখন যেখানে সন্ত্রাসীদের খতম করা হয়, সেখানেই তাদের কবর দেওয়া হয়। একসময় সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগকারী সন্ত্রাসীদের আত্মীয়দের সরকারি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
রাজ্যসভায় অমিত শাহ আরও বলেন, ‘এক দেশে দুই পতাকা, দুই প্রধান বা দুই সংবিধান থাকতে পারে না। দেশে একজন প্রধানমন্ত্রী, একটি সংবিধান এবং একটি পতাকা থাকবে। ২০১৯ সালের ৫ অগাস্ট এই নীতির সূচনা হয়েছে। কাশ্মীর চিরতরে ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আগের (ইউপিএ) শাসনামলে জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৩ বছর ধরে সিনেমা হল খোলা হয়নি। আমাদের সময়ে সিনেমা হল খুলেছে। তাজিয়া মিছিলের অনুমতি ছিল না, আমরা তা দিয়েছি। জি-২০ সম্মেলনের সময় বিশ্বের কূটনীতিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কাশ্মীর ঘুরেছেন, সেখানকার খাবার, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন। কাশ্মীরের কোষাগার বহু বছর ধরে খালি ছিল। ২০১৫ সালে নরেন্দ্র মোদী ৮০ হাজার কোটি টাকার ৬৩টি প্রকল্প চালু করেছিলেন।’
তিনি শেষে বলেন, ‘যাঁরা কালো চশমা পরে চোখ বন্ধ করে বসে আছেন, তাঁদের এই পরিবর্তন দেখানো সম্ভব নয়। আমরা সন্ত্রাসীদের চোখের মাঝে গুলি করি। আমাদের সরকার সন্ত্রাসবাদ সহ্য করে না। দেশে সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই।’
এই বক্তৃতায় অমিত শাহ মোদী সরকারের সন্ত্রাসবাদবিরোধী নীতি ও কাশ্মীরে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।