‘তৃণমূল আমার বাড়ি ভেঙেছে, মারধর করেছে…”- শুভেন্দুর সঙ্গে ফোনালাপের পরই অকপট বঙ্কিম!

২৪ ঘণ্টার মধ্যে একে একে দুটি ঘটনার জন্ম দিলেন বিজেপি বিধায়ক ও চাকদার সংসদ সদস্য বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ। একদিকে তাঁর সম্ভবত দলবদলের জল্পনা, অন্যদিকে সাংবাদিকদের কাছে তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক— এইসব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে, বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষের দাবি, তিনি কোনো অবস্থান বদল করেননি এবং সংবাদমাধ্যমই তাঁর বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, যার ফলে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

২০ মার্চ, ২০২৫ তারিখে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন এক মন্তব্য করেছিলেন, যা পরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান সংক্রান্ত জল্পনা সৃষ্টি করে। তিনি বলেছিলেন, “তৃণমূল চারবার আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে, প্রকাশ্যে আমাকে মারধর করেছে এবং চরম অপমান করেছে। তাই আমি নিশ্চিত, এমন অভিজ্ঞতা থেকে কোনোদিনও আমার মতো একজন নির্যাতিত ব্যক্তি তৃণমূল দলে যোগদান করতে পারে না।”

এদিন বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন, বিজেপি বিধায়করা স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে হইচই শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, যে বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন তাঁদের ওপর হামলা করা হয়েছে, এমনকি বিরোধী দলনেতার গাড়িতেও আক্রমণ করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি বিধায়করা অধিবেশন বয়কট করে বেরিয়ে আসেন, এবং এই বয়কটের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষও ছিলেন।

তবে বঙ্কিমের বক্তব্য ছিল ভিন্ন। তিনি বলেন, “বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ছিল, সেখানে আমরা উপস্থিত থাকতে পারিনি। আমাদের এই বয়কট করা ঠিক হয়নি।”

এই মন্তব্যের পরেই বঙ্কিমের দলবদলের জল্পনা শুরু হয়। সংবাদমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের প্রসঙ্গে জানানো হয়, তিনি কি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে যাচ্ছেন? তবে বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ এটিকে সাফাই দিয়ে বলেন, “সংবাদমাধ্যম আমার মন্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে, আমি কোন অবস্থান বদল করি নি।”

বৃহস্পতিবার রাতেই বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন। তিনি শুভেন্দুকে জানান, সংবাদমাধ্যমই তাঁর বক্তব্য বিকৃত করেছে, যার ফলে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, “আমি দলের অবস্থান বিরোধী কোনো মন্তব্য করিনি।”

শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে কোনো দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দেন এবং বলেন, “আপনি সঠিক কথা বলেছেন, এবং কিছুই পরিবর্তন হয়নি।”

বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “গত চার বছরে বিরোধী দলনেতা সহ আমাদের বারবার সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের কথা বলতে গেলে বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়ে দেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো কথা বললেই তৃণমূল বিধায়করা আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। মার খেয়েও আমরা সাসপেন্ড হয়েছি। স্পিকারের কারণে আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সংক্রান্ত বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি, এটাই আমি বলছিলাম।”

এভাবেই বিতর্ক এবং জল্পনার পর বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন, এবং বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেন।