গৃহবধূকে ধর্ষণ ও খুনের চেষ্টা, অভিযুক্ত প্রতিবেশী গ্রেপ্তার, শাস্তির দাবিতে পরিবার ও স্থানীয়রা

দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে ফের নারী নির্যাতনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এক গৃহবধূকে ধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় নির্যাতিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, এবং পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৩৫ বছর বয়সি ওই মহিলা মথুরাপুরের পাঠুলিঘাটার বাসিন্দা। নির্যাতিতার স্বামীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ফাঁকা মাঠে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাঁকে খুনের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয়। তবে কোনওমতে প্রাণে বেঁচে যান ওই গৃহবধূ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, তাঁর মাথা ও পায়ে গুরুতর আঘাত রয়েছে। অবস্থা স্থিতিশীল হলেও আঘাতের তীব্রতা উদ্বেগজনক।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেপ্তার

নির্যাতিতার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্ত যুবককে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, নির্যাতিতা মহিলার সঙ্গে অভিযুক্তের গোপন সম্পর্ক থাকতে পারে, যা এই ঘটনার পেছনে কারণ হয়ে উঠতে পারে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে।

ঘটনার বিবরণ

নির্যাতিতার স্বামী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত তাঁর স্ত্রীকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। ফাঁকা মাঠে ধর্ষণের পর তাঁকে খুনের চেষ্টায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং শ্বাসরোধ করার জন্য গলায় গামছা পেচানো হয়। তবে গৃহবধূ কোনওভাবে বেঁচে যান। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এলাকায় ক্ষোভ

ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মথুরাপুরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয়রা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। এই ঘটনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে অগ্রগতি হলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে।

এই নৃশংস ঘটনা এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নির্যাতিতার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন স্থানীয়রা, এবং অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি চাপ বাড়ছে।