আমেরিকাকে টেক্কা দিতেই এত বিপুল খরচ করছে চিন? রাজনীতিতে মহলে উত্তেজনা!

বুধবার চতুর্দশ ন্যাশনাল কংগ্রেসের তৃতীয় অধিবেশন থেকে রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। চলতি বছরের বাজেটে তিনি লাল ফৌজের পিছনে ৭.২ শতাংশ ব্যয়বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন, যা সামরিক খাতে মোট ২৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
চীন সামরিক দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ এবং আমেরিকার পরেই তার অবস্থান। তবে, এই সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধি দেখে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এক প্রশ্ন উঠছে: কি আর দ্বিতীয় স্থানে থাকতে চান না শি জিনপিং? কেন এই বিপুল ব্যয় বৃদ্ধি? গত বছরের মতো এবারও ৭.২ শতাংশ সামরিক খাতে ব্যয় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালেও এই ব্যয়বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৭.৫ শতাংশ।
বছরের পর বছর সামরিক ব্যয়ের এই বিশাল বৃদ্ধি কেবলমাত্র শক্তি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে কিনা, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা অনুমান করছেন। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চীন তার সামরিক শক্তি আরও বাড়িয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে তার প্রভাব বৃদ্ধি করতে চাইছে। তবে শুধুমাত্র সামরিক শক্তির বিষয় নয়, বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের লক্ষ্য অন্য জায়গাতেও রয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় শঙ্কার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে তাইওয়ান। শি জিনপিংয়ের সরকার গত দু’বছর ধরে তাইওয়ানকে নিয়ে আকারে ইঙ্গিতে নানা হুমকি-হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। এর পাশাপাশি, ভারতের সঙ্গে লাদাখ সীমান্তে চলমান সমস্যা এখনো মেটেনি। এই সব পরিস্থিতির মধ্যে, চীনের সামরিক ব্যয়ের বৃদ্ধিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক স্তরে একটি উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
বিশ্ব নেতারা এখন চীনের এই সামরিক পরিকল্পনার দিকে নজর রেখে চলেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীন এইভাবে সামরিক খাতে আরও ব্যয় বাড়ানোর মাধ্যমে শুধুমাত্র শক্তি প্রদর্শন করতে চাইছে না, বরং তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপরেও প্রভাব ফেলবে।