৯০০ টাকায় মানবে না! কুইন্টালে ১৩০০ টাকার দাবিতে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ আলু চাষিদের

কখনও ডিভিসির ছাড়া জল প্লাবিত করেছে জমি, কখনও বা অকাল বৃষ্টিতে মাঠেই শুরু হয়েছে আলুর পচন। মরসুমের শুরু থেকেই বিপাকে চাষিরা। এরইমধ্যে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে একাধিক জেলায় বৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হুগলি থেকে বাঁকুড়া— সর্বত্রই বৃষ্টির ধাক্কায় মাথায় হাত কৃষকদের। কোথাও জমিতে জল দাঁড়িয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে, কোথাও আবার শেষ মুহূর্তে মাছ ধরার কায়দায় জলমগ্ন জমি থেকে আলু তোলার চেষ্টা করছেন চাষিরা। ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে, উঠছে ক্ষতিপূরণের দাবি।

এই অবস্থায় চাষিদের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার প্রতি কুইন্টাল আলুর সহায়ক মূল্য ৯০০ টাকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু কৃষকদের দাবি, এই মূল্য যথেষ্ট নয়। উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে অভিযোগ। তাঁদের দাবি, সহায়ক মূল্য কমপক্ষে ১৩০০ টাকা করা হোক। এই দাবিকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে পথে নেমেছে কৃষক সংগঠনগুলি।

জলপাইগুড়ির ৭৩ মোড়ে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে পথ অবরোধ করে কৃষকরা। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিক্ষোভে আলুর সহায়ক মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজ-সহ অন্যান্য দাবিও তোলা হয়। বাঁকুড়াতেও দেখা গেল একই চিত্র। জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় প্রাদেশিক কৃষক সভার সদস্যরা।

এদিন বাঁকুড়ার পুয়াবাগানে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলা অবরোধের ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আলু চাষিদের অভিযোগ, প্রতি বছর সাধারণ মানুষ ৩০-৪০ টাকা প্রতি কেজি দরে আলু কিনতে বাধ্য হন, অথচ কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পান না। তাঁদের দাবি, রাজ্য সরকার অবিলম্বে প্রতি কুইন্টাল আলুর সহায়ক মূল্য ১৩০০ টাকা ঘোষণা করুক, যাতে কৃষকরাও লাভের মুখ দেখতে পারেন। একইসঙ্গে, কৃষক বাজারগুলিতে ন্যায্যমূল্যে ধান কেনা ও ক্রমবর্ধমান চালের দাম নিয়ন্ত্রণের দাবিও তোলা হয়েছে।

এই সমস্ত দাবিকে সামনে রেখেই ফের পথে নামল কৃষক সংগঠনগুলি। বাঁকুড়ার পুয়াবাগান ছাড়াও জয়পুর ব্লকের চাতরা মোড়, হীড়বাঁধ ব্লকের হাতিরামপুর মোড় ও গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের দুর্লভপুর মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় কৃষক সংগঠনগুলি।