“মমতার গাড়ি থেকে নেমে থ্রেট দিচ্ছে গুন্ডারা”-ভোটের সকালে বিস্ফোরক অভিযোগ ভোটারের!

পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণে সকাল থেকেই বৃষ্টির ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে বুথে বুথে লম্বা লাইন। কিন্তু বেলা বাড়তেই ভবানীপুর কেন্দ্রে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন বিতর্ক। সচরাচর যা দেখা যায় না, সেই প্রথা ভেঙে আজ সাতসকালেই রাস্তায় নেমেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই এলাকা পরিদর্শনের মাঝেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ তুললেন এক ভোটার।
মমতার গাড়ি থেকে ‘গুণ্ডা’ নামার অভিযোগ!
সংবাদ সংস্থার একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ভবানীপুরের এক ভোটার মমতার গাড়ি ঘিরে চাঞ্চল্যকর দাবি করছেন। তাঁর কথায়:
“উনি বুঝে গিয়েছেন যে এবার ভোটে হেরে যাচ্ছেন। তাই গাড়ি করে গুণ্ডা নিয়ে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি থেকেই কয়েকজন লোক নেমে আমাদের সরাসরি হুমকি দিয়েছে।”
এই ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বিরোধীদের ষড়যন্ত্র বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সকাল ১১টা পর্যন্ত ভোটের পরিসংখ্যান
বৃষ্টি বিঘ্নিত আবহাওয়ার মধ্যেও সকাল ১১টা পর্যন্ত বাংলায় ভোটগ্রহণ মোটের ওপর বড় কোনো অশান্তি ছাড়াই চলছিল। সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১৮.৩৯ শতাংশ। তবে মমতার এই নজিরবিহীন বুথ পরিদর্শন এবং তার পরবর্তী এই অভিযোগ গোটা নির্বাচনী উত্তাপকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
শুভেন্দুর কটাক্ষ ও মমতার পাল্টা তোপ
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে মমতাকে তীব্র বিঁধেছেন। তিনি বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।” শুভেন্দুর দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই মমতা সকাল সকাল রাস্তায় নেমেছেন।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী পাল্টে তোপ দেগেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। তাঁর অভিযোগ:
VIDEO | West Bengal election: Voters in North 24 Parganas allege CM Mamata Banerjee of threatening them.
One of the voters, said, “She thinks that she has lost in the elections which is why she has brought goons in her car. One of the persons came out of her car and threatened… pic.twitter.com/l42QebCItz
— Press Trust of India (@PTI_News) April 29, 2026
-
তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু ও তাঁর স্ত্রীকে রাত দেড়টায় হেনস্থা করা হয়েছে।
-
সারারাত এলাকায় ‘তাণ্ডব’ চলেছে।
-
মমতা সাফ জানিয়েছেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী নয়, আজ প্রার্থী হিসেবে বুথে বুথে ঘুরছি।”
আরজি করের নির্যাতিতার বাবার কান্না
এদিন এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ভোটকেন্দ্র। ভোট দিয়ে বেরিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন আরজি করের নির্যাতিতার বাবা। তিনি জানান, মেয়ের ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেই আজ তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
ভবানীপুরের এই হাই-ভোল্টেজ লড়াই শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থামে, এখন সেটাই দেখার।