পুলিশ আসতেই পুরুষশূন্য গ্রাম! বীরভূমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে গ্রেফতার হলেন ১১ জন মহিলা

বীরভূমের শান্তিনিকেতন থানার রূপপুর পঞ্চায়েতের মোমিনপাড়া গ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের অনুগামীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পুলিশ ১১ জন মহিলাকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত
মোমিনপাড়া গ্রামে অনুব্রত মণ্ডল গোষ্ঠী ও বাবু দাস গোষ্ঠীর মধ্যে দিন কয়েক ধরেই উত্তেজনা চলছিল। অনুব্রত মণ্ডলের সঙ্গে দেখা করতে বোলপুরে তৃণমূল কার্যালয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে এই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। দুই পক্ষের অনুগামীরা একে অপরের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে, মারধর করে এবং ভাঙচুর চালায়।
পুলিশের হস্তক্ষেপ
অশান্তির খবর পেয়ে শান্তিনিকেতন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশের আগমন জানতে পেরে গ্রামের পুরুষরা পালিয়ে যায়। তবে গ্রামে অশান্তি ছড়ানোর অভিযোগে দুই পক্ষেরই ১১ জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে বাড়ি-বাড়ি দরজায় লাথি মেরে তল্লাশি চালিয়েছে।
দুই পক্ষের অভিযোগ
বাবু দাস শিবিরের তৃণমূল কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বাবু দাস শিবিরের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
আহত ও আতঙ্ক
ইটপাটকেলের সময় গ্রামের এক সিভিক ভলেন্টিয়ার ইটের আঘাতে জখম হন। গোটা ঘটনায় গ্রামে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের তল্লাশি ও গ্রেফতারের ঘটনায় গ্রামবাসীরা ভীতসন্ত্রস্ত।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
বীরভূমে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন নয়। অনুব্রত মণ্ডল ও কাজল শেখের অনুগামীদের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ গ্রেফতারকৃত মহিলাদের জেরা করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ গ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের মূল সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। তবে রাজনৈতিক গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।