বছরে ৩০০-৪০০! ডিভোর্সের হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে বাংলার ‘ছোট্ট’ এই এলাকায়, উদ্বেগ আইনজীবীদের

আরামবাগ মহকুমা এলাকায় ডিভোর্সের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। পরিসংখ্যান বলছে, বিগত পাঁচ বছরে আরামবাগ মহকুমা আদালতে বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষত, পরকীয়া সম্পর্ক, পারিবারিক অশান্তি এবং অল্পবয়সীদের স্পেশ্যাল ম্যারেজ আইনে গোপনে বিয়ে করে দ্রুত বিচ্ছেদের প্রবণতা এই বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিভোর্সের পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালে যেখানে বছরে গড়ে ২০০টির মতো ডিভোর্স মামলা হত, সেখানে ২০২৫ সালে তা প্রায় ৪০০ ছুঁয়েছে।
👉 ২০২১ সালে ডিভোর্সের মামলা: ৩০৬টি
👉 ২০২২ সালে ডিভোর্সের মামলা: ৩৯৭টি
👉 ২০২৩ সালে ডিভোর্সের মামলা: ৩৭১টি
👉 ২০২৪ সালে ডিভোর্সের মামলা: ৪১৬টি
👉 ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে: ৭৪টি মামলা
আইনজীবীদের মতে, আগে বৈবাহিক নির্যাতন ছিল প্রধান কারণ, কিন্তু বর্তমানে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
একজন সরকারি কৌঁসুলি জানান—”আগে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভিত্তিতে ডিভোর্সের মামলা হত। এখন অধিকাংশ মামলায় পরকীয়ার অভিযোগ উঠে আসছে।”
স্পেশ্যাল ম্যারেজ আইনে বিয়ে ও দ্রুত বিচ্ছেদের প্রবণতা
বিশেষত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে স্পেশ্যাল ম্যারেজ আইনে গোপনে বিয়ে করা ও কিছুদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদের জন্য আদালতে হাজির হওয়া নতুন সামাজিক সমস্যার জন্ম দিয়েছে।
এক আইনজীবী বলেন—”১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে বিয়ের হার বেড়েছে, কিন্তু সেই বিয়েগুলো টেকসই হচ্ছে না। অনেকেই শুধুমাত্র একসঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার সুবিধার জন্য বিয়ে করছেন এবং কিছুদিন পরেই ডিভোর্স চাইছেন।”
বধূ নির্যাতনের মামলার বৃদ্ধি
শুধু ডিভোর্সই নয়, বধূ নির্যাতনের মামলার সংখ্যাও ক্রমাগত বাড়ছে।
👉 ২০২৪ সালে: ৪৭টি বধূ নির্যাতনের মামলা
👉 ২০২৫ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে: ৬টি নতুন মামলা
প্রায় সব ক’টি মামলাই বিচ্ছেদের পথে এগোচ্ছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া, দ্রুত সম্পর্ক গড়ে ওঠা ও ভেঙে যাওয়া, পারিবারিক অবস্থা, মানসিক পরিপক্কতার অভাব এবং অর্থনৈতিক চাপ— এসব কারণই বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে।
আইনজীবীদের পরামর্শ, বিয়ের আগে পরিপক্কতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার প্রবণতা কমানো প্রয়োজন।
আরামবাগে এই ডিভোর্সের সংখ্যা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে সামাজিক কাঠামোর ওপর এর গভীর প্রভাব পড়তে পারে, এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।