বিশেষ: ১০ বছরে ৪ গুণ বাড়বে ভারতের ই-কমার্স বাজার, জেনেনিন কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

আগামী ১০ বছরে ভারতের ই-কমার্স খাত ব্যাপকভাবে প্রসারিত হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে বাজারের মোট মূল্য ৫৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানিয়েছে অ্যানারক এবং ইটি রিটেল। ২০২৪ সালে ভারতের ই-কমার্স বাজারের আকার ছিল আনুমানিক ১২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৪৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
কেন এত দ্রুত বাড়ছে ভারতের ই-কমার্স খাত?
রিপোর্ট অনুযায়ী, কয়েকটি মূল কারণ ভারতের ই-কমার্স বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে—
✅ ইন্টারনেট ব্যবহার বৃদ্ধি: শহর ও গ্রাম দু’জায়গাতেই ইন্টারনেট সংযোগের প্রসার ঘটছে।
✅ স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীলতা: কম দামের স্মার্টফোন সহজলভ্য হওয়ায় ই-কমার্সের প্রসার দ্রুত হচ্ছে।
✅ ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর উন্নতি: ইউপিআই (UPI)-এর মতো পরিষেবার মাধ্যমে অনলাইন লেনদেন সহজ হয়েছে।
✅ তরুণ ও প্রযুক্তি-সচেতন জনসংখ্যার আধিক্য: ডিজিটাল কেনাকাটার অভ্যাস বাড়ছে তরুণদের মধ্যে।
‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ ও লজিস্টিক উন্নয়ন বড় ভূমিকা রাখছে
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি, দেশের পরিবহণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, আধুনিক সাপ্লাই চেন ব্যবস্থাপনা ই-কমার্স খাতকে আরও শক্তিশালী করছে। অ্যানারক রিটেলের এমডি ও সিইও অনুজ কেজরিওয়াল জানিয়েছেন, ‘‘ই-কমার্স সংস্থাগুলি শুধু মেট্রো শহরেই নয়, ছোট শহর ও গঞ্জের বাজারেও দ্রুত প্রবেশ করছে। ফলে এই খাতের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠছে।’’
ভারতের খুচরো বাজারের ভবিষ্যৎ
২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতের সার্বিক খুচরো বিপণনের বাজার ২,৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। যা ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি। বিশেষজ্ঞদের মতে—
🔹 মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি
🔹 শহরায়নের দ্রুত প্রসার
🔹 নগদহীন লেনদেনের জনপ্রিয়তা
🔹 তরুণ ক্রেতাদের ডিজিটাল কেনাকাটার প্রতি ঝোঁক
এই সমস্ত কারণ খুচরো বিপণন ও ই-কমার্স বৃদ্ধির মূল চালিকা শক্তি হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ই-কমার্স খাত আগামী এক দশকে আরও শক্তিশালী হবে এবং ব্যবসায়িক দিক থেকে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজারে পরিণত হবে। প্রযুক্তির বিকাশ ও ক্রেতাদের অভ্যাসের পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ই-কমার্স সংস্থাগুলিও নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করছে, যা এই বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।