বাংলার কৃষকদের বঞ্চনা? কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রীকে কড়া চিঠি সাংসদ কীর্তি আজাদের

আবারও বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বৈষম্যের অভিযোগ। এবার বিষয়টি কৃষিক্ষেত্র সংক্রান্ত। বাংলার কৃষকদের সঠিক পরিমাণ সার না দেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে কড়া চিঠি পাঠালেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কীর্তি আজাদ।
এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ একশো দিনের কাজ এবং আবাস যোজনার টাকার পর এবার কৃষিক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলল রাজ্য। অন্যদিকে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর ভারতের কৃষক আন্দোলনের চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার কৃষকদের বঞ্চনার অভিযোগ নতুন বিতর্ক তৈরি করল।
সার ও রসায়ন বিষয়ক সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান কীর্তি আজাদ অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের কাছে ২ লক্ষ মেট্রিক টন নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম (NPK) সার চেয়েছিল। কিন্তু মাত্র ১.১৬ লক্ষ টন সার পাঠানো হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে পাঠানো চিঠিতে কীর্তি আজাদ লিখেছেন—
“মিথ্যে প্রতিশ্রুতি বা বিভ্রান্তিকর তথ্য আর শুনতে চাই না। এবার স্পষ্ট জবাব চাই। বাংলার কৃষকদের প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্রের এই বৈষম্যমূলক আচরণ অবিলম্বে বন্ধ হোক।”
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বাংলার কৃষকদের মধ্যেও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অনেক কৃষক এতদিন ধরে সার ঘাটতির আসল কারণ বুঝতে পারছিলেন না। এখন বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁদের হতাশা বেড়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এটি একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে বাংলার প্রতি বৈষম্যের আরও একটি উদাহরণ। এর আগে ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং গ্রামীণ আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ এনেছিল রাজ্য সরকার। এবার কৃষিক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।
এখন দেখার, কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান কী উত্তর দেন এবং বাংলার কৃষকদের দাবি পূরণ হয় কি না।