গায়ক না হলে কী হতেন কুমার শানু? জানলে অবাক হতে বাধ্য আপনি!

আশির দশকের শেষ থেকে নয়ের দশক পর্যন্ত বলিউডের সুর সম্রাট কুমার শানুর গানের জাদু ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী। রোমান্টিক ট্র্যাকে নায়কদের হিট গান থেকে শুরু করে, দুঃখ-দুর্দশার স্যাড সঙ্গীত—সবই কুমার শানুর কণ্ঠে পরিণত হয়েছিল শ্রোতাদের মনের মণিকোঠায়। আজও বলিউডের স্যাড গানের সঙ্গে তার নাম জড়িত। তবে, কুমার শানুর কেরিয়ার শুরুটা সহজ ছিল না। গানের পাশাপাশি, তার মধ্যে একটি বিশেষ দক্ষতা ছিল যা অনেকেই জানতেন না—তবলাবাদক হিসেবে তার সুনাম ছিল বেশ।

কলকাতার এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া কুমার শানু প্রথমে কিশোর কুমারের অনুকরণে গায়ক হিসেবে পরিচিত হন। কলকাতা এবং বাংলার বিভিন্ন জায়গায় স্টেজ শো করতেন, তবে তার পাখির চোখ ছিল মুম্বই, বলিউড। মুম্বইয়ে আসার পরও তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছিল। তবে, পরিশ্রম এবং ভাগ্যের সহায়তায় শানু ধীরে ধীরে বলিউডে তার জায়গা করে নেন।

কিন্তু শানুর গায়কী ছাড়াও একটি নক্ষত্র রয়েছে, যা তার কম জনসংখ্যার মধ্যে পরিচিত ছিল। কুমার শানু ছিলেন একজন দক্ষ তবলাবাদক। গায়ক হওয়ার আগে, শানু তবলায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। শানু নিজে এক পুরানো সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, “যদি গায়ক না হতাম, তাহলে তবলাবাদক হব। কারণ, গান ছাড়া আর যদি কিছু করতে পারি, সেটা হল তবলা বাজানো।”

এটি এমন এক দিক যা সাধারণত শানুর গানের স্বরূপের মধ্যে গোয়া হয়ে গেছে, কিন্তু তবলাবাদনে তার প্রতিভা ছিল তার অন্যান্য সঙ্গীতকর্মের থেকে আলাদা। শানুর গায়কী জগতের পাশাপাশি, তার তবলাবাদক হওয়ারও একটি উল্লেখযোগ্য ইতিহাস রয়েছে, যা আরও একটি নতুন দিক উন্মোচন করে।

আজও, যখন কুমার শানু তার গান শোনান, তখন মনে হয় যেন প্রতিটি সুর তার জীবনের কথা বলে। গানের পাশাপাশি, তার তবলাবাদকির প্রতিভাও তাকে সঙ্গীতের জগতের এক অমূল্য রত্ন করে রেখেছে।