“পুরসভা কি বাঁশ নিয়ে দাঁড়িয়ে হেলা বাড়ি সোজা করবে?”-মেজাজ হারালেন ফিরহাদ হাকিম

কলকাতায় একের পর এক বহুতল বাড়ি হেলে যাওয়ার ঘটনায় কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাঘাযতীনের পর এবার ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডে একটি বহুতল হেলে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই মেজাজ হারালেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “পুরসভা কি বাঁশ নিয়ে দাঁড়িয়ে হেলা বাড়ি সোজা করবে?”
মেয়রের প্রতিক্রিয়া:
বুধবার ট্যাংরার ক্রিস্টোফার রোডের একটি বহুতল হেলে গেলে পুলিশ দ্রুততার সাথে সেখানকার বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, বাড়িটি বেআইনিভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, কলকাতায় এই ধরনের বহু বেআইনি নির্মাণ গজিয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিম বলেন, “পুরসভা কি বাঁশ নিয়ে দাঁড়িয়ে হেলা বাড়ি সোজা করবে? আসলে আইনটা জানতে হবে। বাড়ি তৈরি করতে যে লিস্টেড ইঞ্জিনিয়াররা দায়িত্বে থাকেন, তাঁদেরকে ডেকে পাঠানো হয়েছে এবং শোকজ করা হচ্ছে। এই হেলা বাড়ি নিয়ে যখন এত আলোচনা, তখন আমরা এই বাড়িটির ডিমোলিশান অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। আগের যে বাড়িটি অর্থাৎ ৯৯ নম্বর ওয়ার্ড বাঘাযতীনে, সেখানকার পুরসভার দুজন ইঞ্জিনিয়ারকে শোকজ করা হয়েছে। তারা কেন দেখল না বাড়িটি হেলে রয়েছে?”
বাঘাযতীনের ঘটনা:
বাঘাযতীনের ঘটনা প্রসঙ্গে মেয়র জানান, “বাঘাযতীনের বাড়ি নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছে। যে বিষয়টি আগেই জানিয়েছিলাম, এটি টেকনিক্যাল কারণে হয়েছে। তবে ডিটেলসটা আমি এখনও জানি না, কী রিপোর্ট জমা পড়েছে, কারণ সেটি কমিশনারের কাছে জমা পড়েছে। এটি বিল্ডিং কমিটিতে ফেলে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।”
হেলে যাওয়া বাড়ির সংখ্যা:
মেয়র জানান, কলকাতায় বর্তমানে হেলে যাওয়া বাড়ির সংখ্যা ৩০টি। তাঁর মতে, এই বাড়িগুলি দীর্ঘদিন ধরেই হেলে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বেআইনি বাড়ি নিয়ে আমি মেয়র হওয়ার পর যে প্রসেস করে দিয়েছি, যা অন্য কোনও মেয়র করেনি। এই প্রসেসে নতুন করে বেআইনি বাড়ি হওয়ার কোনও প্রশ্ন নেই, যদি সেখানে কোনও প্রশাসনিক গাফিলতি না থাকে তো। সাধারণত বেআইনি নির্মাণ হয়ে থাকে ছোট জায়গায় বাড়ি করার ক্ষেত্রে। সেখানে এক কাঠা জমিতে বাড়ি তৈরি করতে গিয়ে যদি ৪ ফুট করে ছাড় দিতে হয়, তাহলে বাড়ি তৈরি কীভাবে হবে? তিন কাঠা পর্যন্ত জমিতে বাড়ির রেশিও অনুযায়ী ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব নবান্নে পাঠানো হয়েছে। গরিব মানুষকে যদি সুবিধা মতো সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে বেআইনি নির্মাণ বাড়বে। তাই আমরা বিল্ডিং রুলসে পরিবর্তনের প্রস্তাব এনেছি।”
এই ঘটনাগুলি কলকাতা পুরসভার নজরদারি এবং বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে তাদের পদক্ষেপ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। মেয়রের প্রতিক্রিয়া এবং প্রদত্ত ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।