BigNews: সীমান্তে বোমাবাজি বাংলাদেশিদের, অস্ত্র হাতে কেটে নিয়ে গেল জমির ফসলও

মালদহের বৈষ্ণবনগর থানার সুখদেবপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অভিযোগ, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-র মদতে বাংলাদেশিরা ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়েছে। এই ঘটনায় দুই বিএসএফ জওয়ান আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তাঁরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গ্যাস বোমাও ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশিরা ভারতীয় কৃষকদের জমির ফসলও কেটে নিয়ে গেছে।
বিভিন্ন সূত্রে খবর, হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কে কিছুটা শীতলতা এসেছে। যার প্রভাব সীমান্ত এলাকাগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এবং নতুন করে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ সদা সতর্ক রয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতার লাগানো নিয়ে বিএসএফ এবং বিজিবির মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। মালদা, কোচবিহার, বালুরঘাট সহ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের একাধিক জায়গায় এই উত্তেজনা দেখা গেছে।
মালদার বৈষ্ণবনগরের সুখদেবপুর আন্তর্জাতিক সীমান্তে বেড়া দেওয়া নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বিএসএফ ভারতীয় ভূখণ্ডে কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু করলে বিজিবি আপত্তি তোলে এবং ভারতীয় শ্রমিকদের গুলি করে দেওয়ার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে বিজিবির সঙ্গে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়েছে, কিন্তু এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শনিবার সকাল থেকে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, লাঠি, কাটারি সহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে কাঁটাতারহীন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশিরা ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করে এবং হামলা চালায়। তারা ভারতীয় কৃষকদের জমির ফসল কেটে নেয় এবং কিছু ফসল নষ্ট করে দেয়। এই ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীরা উত্তেজিত হয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন এবং বাংলাদেশিদের তাড়া করেন। খবর পেয়ে বিএসএফ জওয়ানরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপরই বাংলাদেশিরা বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে এবং বোমাও ছোড়ে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিএসএফ কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিএসএফ জওয়ানরা এখন সীমান্তের বাসিন্দাদের সীমানার কাছাকাছি যেতে দিচ্ছেন না। স্থানীয় কৃষকরা তাদের চাষের জমিতে যেতে চাইলেও নিরাপত্তার কারণে বিএসএফ তাদের জমিতে যেতে বাধা দিচ্ছে। বর্তমানেও পরিস্থিতি যথেষ্ট উত্তপ্ত রয়েছে।