কপিল শর্মার শোয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে ‘মস্করা’? মামলার হুঁশিয়ারি দিলেন শ্রীজাত

নেটফ্লিক্সে প্রচারিত ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘একলা চলো রে’ নিয়ে যেভাবে মজা করা হয়েছে, তা নিয়ে কবি শ্রীজাত তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
কৌতুক অভিনেতা কৃষ্ণ অভিষেক জ্যাকি চানের চরিত্রে অভিনয় করার সময় ‘একলা চলো রে’ গানের লাইনকে বিকৃত করে ব্যবহার করেন। কপিল শর্মা এই জোককে উৎসাহিত করেন।শ্রীজাত এই ঘটনাকে রবীন্দ্রনাথ ও বাঙালি সকলের অপমান বলে উল্লেখ করেছেন। অনেক দর্শক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীও এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
শ্রীজাত মনে করেন, এইভাবে রবীন্দ্রনাথের গানকে ব্যবহার করা অসম্মানজনক।তিনি শো-এর নির্মাতাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি ওই অংশটি পুনর্সম্পাদনা করার দাবি জানিয়েছেন।বলেছেন, ‘আজ থেকে এক সপ্তাহ, অর্থাৎ ৭ নভেম্বর, ২০২৪-এর মধ্যে আমার দাবিগুলি গৃহীত, বিবেচিত এবং পূর্ণ না-হলে আমি আইনের পথে হাঁটব। বাংলা ভাষার একজন শব্দশ্রমিক হিসেবেই হাঁটব। আর কেউ আমার সঙ্গে না-থাকলেও হাঁটব। কেননা রবীন্দ্রনাথ তো বলেইছেন, ‘যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে’!’
এই ঘটনার গুরুত্ব:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের একজন প্রতীক। তাঁর গানকে এভাবে ব্যবহার করা সাংস্কৃতিক অপমান।সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, যা দেখায় যে মানুষ সাংস্কৃতিক বিষয়গুলি নিয়ে সচেতন।কৌতুক করার নামে সব কিছুই করা যায় না। সৃজনশীলতাও একটি সীমার মধ্যে থাকা উচিত।
এই ঘটনা থেকে আমরা কী শিখতে পারি:
আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পদগুলি আমাদের গর্ব। তাদেরকে সম্মান করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করার আগে ভাল করে ভাবতে হবে। সৃজনশীলতা মানে যে কোনো কিছু করার অধিকার নয়।এই ঘটনা আমাদের সকলকে সতর্ক করে দিয়েছে যে, আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধগুলি রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।