” ফ্রি-তে কন্টেন্ট দেখার বিপুল চাহিদা”- বিনোদন ক্ষেত্রে পাইরেসির ‘থাবা’-য় ক্ষতি ২২,৪০০ কোটি

সিনেমা, গান, ওয়েব সিরিজ—এ সবই যদি ফ্রিতে দেখা যায়, তাহলে কে আর টাকা খরচ করে সাবস্ক্রিপশন নেবে? এই প্রশ্নের উত্তরেই লুকিয়ে রয়েছে ভারতের বিনোদন শিল্পের বিরাট সমস্যা। পাইরেসি বা অনধিকার চুরি করে কনটেন্ট বিক্রি করা, এই শিল্পের জন্য এক বড় কালো ছায়া।
এক সম্প্রতি প্রকাশিত রিপোর্টে জানা গেছে, পাইরেসির কারণে ভারতের বিনোদন শিল্প প্রতি বছর প্রায় ২২,৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থাৎ, সিনেমা, গান, ওয়েব সিরিজের নকল কপি বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার ফলে এই বিশাল অঙ্কের টাকা শিল্প থেকে চলে যাচ্ছে।
আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ং এবং ইন্টারনেট অ্যান্ড মোবাইল অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (আইএএমএআই)-এর এক যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, পাইরেসির কারণে ভারতের বিনোদন শিল্প প্রতি বছর প্রায় ২২,৪০০ কোটি টাকা লোকসান গুনছে। সিনেমা হল থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সব জায়গায় পাইরেসির প্রভাব পড়ছে।
স্ট্রিমিং সার্ভিসগুলি পাইরেসির সবচেয়ে বড় শিকার।তরুণ প্রজন্ম পাইরেসির প্রতি বেশি আকৃষ্ট।নিঃশুল্ক বিনোদনের প্রতি মানুষের আকর্ষণই পাইরেসির মূল কারণ।
কেন এত ক্ষতি হচ্ছে?
ইন্টারনেটের যুগে পাইরেটেড কনটেন্ট খুব সহজেই পাওয়া যায়।পাইরেটেড কনটেন্ট বিনামূল্যে বা খুব কম দামে পাওয়া যায়। অনেক মানুষের কাছে একাধিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন ফি বেশি মনে হয়।কোভিডের সময় বাড়িতে বসে বিনোদনের চাহিদা বাড়লেও, আর্থিক সংকটের কারণে অনেকে পাইরেসির দিকে ঝুঁকছেন।
কীভাবে এই সমস্যা মোকাবিলা করা যায়?
পাইরেসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন প্রয়োগ করা জরুরি। মানুষকে পাইরেসির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা।ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলিকে সাবস্ক্রিপশন ফি কিছুটা কমাতে হবে। বৈধ প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে, যাতে মানুষ পাইরেসির দিকে না যায়।
এই সমস্যার সমাধান না হলে কী হবে?
পাইরেসির কারণে শিল্পীরা তাদের কাজের জন্য যথাযথ মূল্য পাবেন না। যদি শিল্পীরা লাভ না করে, তাহলে তারা নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে উৎসাহিত হবে না।
বিনোদন শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাইরেসির কারণে এই শিল্পের ক্ষতি হলে দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পাইরেসি একটি জটিল সমস্যা। এই সমস্যার সমাধানের জন্য সরকার, শিল্প সংস্থা এবং সাধারণ মানুষ সবার যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।