জিনস পরে স্কুলে নয়! বিতর্ক বাধিয়ে শেষমেশ পিছু হটলেন ডিআই

কলকাতার জেলা স্কুল পরিদর্শক (ডিআই) সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় স্কুলে জিন্স পরা নিষিদ্ধ করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন। রবিবার স্কুলশিক্ষা দপ্তরের অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রধান শিক্ষকদের দুটি নির্দেশ জারি করেছিলেন তিনি।

প্রথমত, শিক্ষকদের নিয়মিত অ্যাটেন্ড্যান্স দিতে হবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরে কাউকে স্কুলে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, পুরুষ শিক্ষকরা স্কুলে জিন্স বা অন্য কোনও ধরনের ইনফরমাল পোশাক পরতে পারবেন না।

দ্বিতীয় নির্দেশটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। রাত আটটার পরে ডিআই আরেকটি বার্তা পাঠিয়ে আগের মেসেজটি উপেক্ষা করার নির্দেশ দিলেও বিতর্ক থেমে থাকেনি।

ডিআই-এর যুক্তি ছিল, “স্কুলের পড়ুয়ারা মাথার চুল থেকে পায়ের জুতো পর্যন্ত সবই শিক্ষকদের দেখে নকল করে। জিন্স বা ইনফরমাল পোশাক শিশু মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। তাই একটা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”

এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছেন বেশ কয়েকজন প্রধান শিক্ষক। যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বলেছেন, “শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন তার ভিত্তিতে শিক্ষকের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। তিনি কী পরে আসছেন, তার ভিত্তিতে নয়।”

মিত্র ইনস্টিটিউশন ভবানীপুর শাখার প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেছেন, “জিন্স কখনও অপসংস্কৃতির প্রতীক হতে পারে না। এ ধরনের বার্তা বিস্ময়কর।”

পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্রও এমন নির্দেশের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।

এই বিতর্কের পরিণাম কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এটা স্পষ্ট যে, পোশাক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক শেষ হওয়ার নয়।