“রামও মন্দির ছাড়াই শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন'”-দাবি করলেন রবিশঙ্কর

লোকসভা ভোটের আগে অযোধ্যার রাম মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উত্তরাখণ্ডের জ্যোতিষ পীঠের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন। তাঁর মতে, অসম্পূর্ণ মন্দিরে ভগবান রামের প্রাণ প্রতিষ্ঠা বা অধিষ্ঠান সনাতন ধর্মের বিধি বিরুদ্ধ।

শঙ্করাচার্যের এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) বিধায়ক জিতেন্দ্র আওহাদ। তাঁর মতেও, অসম্পূর্ণ মন্দিরে রামলালার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে উদ্বোধন করছে বিজেপি।

তবে, শঙ্করাচার্যের বিরোধিতা করেছেন ধর্মগুরু রবিশঙ্কর। তাঁর মতে, শাস্ত্রে বিধান রয়েছে যেখানে কোনও মন্দিরে দেবতার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরও মন্দিরের নির্মাণ কাজ চালানো যায়। তিনি বলেন, “মাদুরাই এবং তিরুপতি বালাজি মন্দিরগুলিও প্রথমে খুব ছোট ছিল। পরে সেগুলি রাজারা বড় করে নির্মাণ করেন। ৫০০ বছর আগের ভুল সংশোধন করা হচ্ছে।”

রবিশঙ্করের কথায়, ‘শাস্ত্রে বিধান রয়েছে যেখানে কোনও মন্দিরে দেবতার প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরও মন্দিরের নির্মাণ কাজ চালানো যায়। তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমে ভগবান রাম নিজেই একটি শিবলিঙ্গের প্রাণ প্রতিষ্টা করেছিলেন। তখন এখানে কোনও মন্দির ছিল না। মন্দির নির্মাণের সময়ও তাঁর কাছে ছিল না। তিনি শিবলিঙ্গের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ও পরে মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল।’

রবিশঙ্করের এই বক্তব্যকে সমর্থন করে আর্ট অফ লিভিং এর প্রতিষ্ঠাতা বরবিশঙ্কর বলেন, “এটা একটা স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। পাঁচ শতাব্দী ধরে মানুষ রাম মন্দিরের জন্য অপেক্ষা করেছে। ৫০০ বছর আগে ঘটে যাওয়া ভুল সংশোধন করা হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ উৎসাহিত।”

অযোধ্যা ট্রাস্টের একজন সদস্য জানান, শঙ্করাচার্যের সঙ্গে আলোচনা চলছে। তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

রাম মন্দির প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ জানুয়ারি। এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।