TMC-ক্ষমতায় আসার পর কত কর্মী নিয়োগ হয়েছে? তথ্য তলব করলো নবান্ন

রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলছেন, শিক্ষক ও পুর নিয়োগে দুর্নীতিতে রাজ্যের একাধিক নেতা-মন্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ায় সরকারের নিয়োগ পদ্ধতি সম্পর্কে জনমানসে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এই সুযোগে শাসক দলকে কোণঠাসা করতে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছে বিরোধীরা। প্রচারটা এমন ভাবে হচ্ছে যেন, এই সরকারের আমলে সবটাই ঘুরপথে নিয়োগ হয়েছে। এর ফলে ভোটবাক্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই সমস্যার মোকাবিলা করতেই বর্তমান সরকারের আমলে কত কর্মী নিয়োগ হয়েছে, সেই তথ্যটাকে জনসমক্ষে আনতে চাইছে সরকার।
এছাড়াও, রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে হাজার হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগ হয়েছে। তার মধ্যে একটা বড় অংশই নবান্নকে অন্ধকারে রেখে করা হয়েছে। সেই সব কর্মীদের বেতন মেটাতে এখন হিমশিম খাচ্ছে তারা। বেতন না পেয়ে অনেক জায়গায় কর্মী বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।
এর ফলে অস্বস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রশাসনকে। এই ধরনের বেআইনি নিয়োগ বন্ধ করতে কেন্দ্রীয় ভাবে কর্মীদের একটা ডেটাবেস তৈরি করে রাখতে চাইছে সরকার। যাতে কর্মীদের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।
এই উদ্যোগের ফলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে বলে মনে করছেন নবান্নের কর্তারা। একদিকে, নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান শক্ত হবে। অন্যদিকে, কর্মীদের ডেটাবেস তৈরি করে কর্মীদের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।
রাজ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যে এই মুহূর্তে প্রায় সওয়া দু’লক্ষ স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। এছাড়াও কন্ট্রাকচুয়াল, ক্যাজুয়াল, রিএমপ্লয়মেন্ট মিলিয়ে আরও দু’লক্ষ কর্মী কাজ করেন।
মুখ্যসচিব বিপি গোপালিকার নির্দেশে, ২০১১ সালের মে থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি অফিস ছাড়াও পুরসভা, পঞ্চায়েত, পুলিশ, স্বশাসিত সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে যত কর্মী নিয়োগ হয়েছে, তাদের পুঙ্খানুপুঙ্খ তালিকা নবান্নের কাছে পাঠাতে হবে দপ্তরগুলিকে। সেই রিপোর্টে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, প্রধান সচিব, সচিব কিংবা জেলাশাসকদের সই থাকা বাধ্যতামূলক।
এই তালিকা হাতে আসার পরে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে জনসমক্ষে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে।