চিনের ড্রোন বা পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান, আকাশেই হবে ছাই! সেনার হাতে ৩০,০০০ কোটির মারাত্মক ‘QRSAM’ মিসাইল!

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য করে তুলতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত আধুনিক ‘কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল’ (QRSAM) সিস্টেম ক্রয়ের প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার এক মেগা চুক্তি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের দোরগোড়ায়। প্রতিরক্ষা খাতের এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি বর্তমানে ‘ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি’ (CCS)-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সবুজ সংকেত পেতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

বিইএল ও বিডিএল-এর যৌথ মাস্টারস্ট্রোক
এই বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) মূল ভূমিকা পালন করবে। পুরো মিসাইল সিস্টেমটিকে একত্রিত বা ইন্টিগ্রেট করার মূল দায়িত্ব থাকবে বিইএল-এর ওপর। অন্যদিকে, এই ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলি সরবরাহ করবে ভারত ডাইনামিকস লিমিটেড (BDL)। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের জন্য বিডিএল একাই প্রায় ১০,০০০ থেকে ১২,০০০ কোটি টাকার অর্ডার পেতে চলেছে।

শত্রুর বিমান ও ড্রোন নিমিষে খতম: কেন এত বিশেষ এই QRSAM?
QRSAM মূলত ভারতীয় সেনাবাহিনীর মোবাইল বা গতিশীল ইউনিটগুলিকে আকাশপথের যেকোনো হামলা থেকে তাৎক্ষণিক সুরক্ষা দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ড্রোন কিংবা অন্য যেকোনো মিসাইল হামলাকে মুহূর্তের মধ্যে সনাক্ত করে মাঝআকাশেই নিখুঁতভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম।

এর সবচেয়ে বড় এবং বিপজ্জনক বৈশিষ্ট্য হলো—সেনাবাহিনীর কনভয় বা সাজোয়া গাড়ি যখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটবে, তখন চলতে চলতেই এটি চারপাশে আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে পারে, যা বিশ্বের খুব কম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থারই ক্ষমতা রয়েছে।

২০০টিরও বেশি দেশীয় সংস্থা ও MSME-র কর্মসংস্থান
এই ৩০ হাজার কোটি টাকার সুবিশাল প্রকল্পে দেশের প্রতিরক্ষা হাবের এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসতে চলেছে। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)-র প্রযুক্তিতে তৈরি এই কর্মসূচিতে ২০০টিরও বেশি দেশীয় সংস্থা ও ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প (MSME) সরাসরি যুক্ত রয়েছে। বিইএল এবং বিডিএল-এর পাশাপাশি শত শত ঘরোয়া প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক কোম্পানি এর উৎপাদন ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের চেইন বজায় রাখবে।

‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর এক নয়া স্বর্ণযুগ
সিসিএস-এর (CCS) অনুমোদন মিললেই এটি ভারতের দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ মিশনকে যা অভাবনীয় গতি প্রদান করবে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পর মূল চ্যালেঞ্জটি হবে দ্রুত উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভারতীয় সেনার হাতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তুলে দেওয়া, যা চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর ক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *