“টাটাকে তাড়ানো ভুল হয়েছিল!” সিঙ্গুর নিয়ে মদন মিত্রর বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল আলোড়ন

সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রায় ২০ বছর পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ বিধায়ক মদন মিত্রের এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতি। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকে যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, আজ সেই আন্দোলন এবং টাটা গোষ্ঠীকে বাংলা থেকে বিদায় করাকে ‘বড় রাজনৈতিক ভুল’ বলে স্পষ্ট স্বীকার করে নিলেন কামারহাটির এই জনপ্রিয় নেতা।

“টাটা থাকলে বদলে যেত বাংলার কর্মসংস্থান”

সম্প্রতি রাজ্যে বাম আমলের শিল্পনীতি এবং সিঙ্গুর পর্ব নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হতেই মুখ খোলেন মদন মিত্র। তিনি সরাসরি বলেন, “আমি মনে করি টাটাকে তাড়ানো ভুল হয়েছিল। টাটাকে তাড়ানো ভুল ছিল। আজকের দিনে যদি শুভেন্দু অধিকারী টাটাকে নিয়ে এসে শিল্প করতে পারে, তবে শুধু সিঙ্গুর নয়, সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আবার আশার আলো দেখবে।”

তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর সংযোজন, “আমি তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বলব, সিঙ্গুরে কারখানা হলে আপনারাই চাকরি পেতেন। টাটার কারখানা হলে কয়েক লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থান হতো। আর টাটাকে দেখে রাজ্যে আরও ১০০টি বড় শিল্প আসত। কিন্তু যেহেতু টাটাকে আটকে দেওয়া হলো, তাই বাকি সব বিনিয়োগও থমকে গেল।”

“বাম জমানার পর শুভেন্দুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই”

নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে মদন মিত্র আরও বলেন, “আমি একার ভুল বলব না, সামগ্রিকভাবে আমাদের দলের রাজনৈতিক মূল্যায়নে বড় ভুল ছিল। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলাম যে, সবুজ বিক্রি করে কংক্রিটের জঞ্জাল হতে দেব না। কিন্তু জমি ছাড়া কি আকাশে শিল্প হবে? ভিত্তি তো সেই মাটিই লাগবে।”

তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শিল্পনীতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সে সময় বুদ্ধবাবুকে ব্যর্থ মনে করা হলেও, আজ শুভেন্দু অধিকারী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আমি বাংলার একজন নাগরিক ও বিধায়ক হিসেবে তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। পরবর্তীকালে ইতিহাসই প্রমাণ করবে যে আমাদের তৎকালীন রাজনৈতিক চিন্তাধারায় ভুল ছিল।”

“ইডির চিঠির পর রূপ বদলেছে!” কুণাল ঘোষের তীব্র আক্রমণ

মদন মিত্রের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর আর চুপ থাকেননি শাসক দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। মদন মিত্রকে তীব্র কটাক্ষ করে কুণাল বলেন, “মদন মিত্রের যাবতীয় যে ‘তৃতীয় নেত্র’ উন্মোচন হয়েছে, তার পুরোটাই ওঁর স্ত্রীকে ইডি (ED) নোটিশ দিয়ে ডাকার পর।”

কুণাল আরও যোগ করেন, “বৌদির নামে ইডির চিঠি যাওয়ার আগে পর্যন্ত ওঁর ডায়লগ ছিল—আমার মৃতদেহের ওপর যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া ফুলের পতাকা থাকে। সুতরাং, ইডির চিঠির ওপর ভিত্তি করে যাঁর রাজনৈতিক অবস্থান রাতারাতি বদলে যায়, তাঁর এহেন কথাবার্তাকে কোনো বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।”

মদন মিত্রের এই অকপট আত্মোপলব্ধি এবং তার জবাবে দলীয় সতীর্থের পাল্টা তোপ—দুই মিলিয়ে সিঙ্গুর কাণ্ডের বহু বছর পর ফের একবার শিল্প ও রাজনৈতিক দলবদল ঘিরে পারদ চড়ছে বঙ্গ রাজনীতিতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *