ধনতেরসের সকালেই সোনা-রুপোর দামে বিরাট ধস! এক ধাক্কায় কত কমল হলুদ ধাতুর দাম?

ধনতেরসের ঠিক সকালেই সোনা ও রুপোপ্রেমী সাধারণ মানুষের জন্য এল এক দারুণ খুশির খবর। উৎসবের এই শুভ মুহূর্তে সোনার বাজারে বড়সড় পতনের দেখা মিলেছে। কলকাতা স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির (SSBC) প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার সূচক অনুযায়ী, ৫ নভেম্বরের তুলনায় ৬ নভেম্বর ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দামে সরাসরি ৩৩৫ টাকা পর্যন্ত পতন ঘটেছে। অন্যদিকে, ফাইন গোল্ড বা ৯৯৫ বিশুদ্ধতার সোনার দাম গ্রামপ্রতি ৩৫০ টাকা কমেছে। শুধু সোনা বা হলুদ ধাতুই নয়, তার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যভাবে দরপতন ঘটেছে রুপোর বাজারেও। ফলে ধনতেরসের পবিত্র লগ্নে যাঁদের নতুন সোনার গয়না, সোনার কয়েন কিংবা রুপোর বাসন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের জন্য আজকের দিনটি দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে।

স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির ৫ নভেম্বর ও ৬ নভেম্বরের প্রকাশিত পরিসংখ্যামূলক তুলনামূলক চিত্রে স্পষ্ট যে, প্রায় সমস্ত ক্যাটাগরির সোনার দামেই বড়সড় পতন এসেছে। ৬ নভেম্বর সকালের সূচক অনুযায়ী, ৯৯৫ বিশুদ্ধতার ফাইন গোল্ডের প্রতি গ্রামের দাম নেমে এসেছে ১৪,০৮৭ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ১৪,৪৩৭ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে প্রতি গ্রামে ৩৫০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি, বহুল ব্যবহৃত ২২ ক্যারেট বা ৯১৬ বিশুদ্ধতার সোনার বিক্রির দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি গ্রাম ১৩,৩৮০ টাকা, যা আগের দিন ছিল ১৩,৭১৫ টাকা। অর্থাৎ এক্ষেত্রে গ্রামপ্রতি ৩৩৫ টাকা ছাড় পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি ২২ ক্যারেট সোনার কেনার দরও কমে প্রতি গ্রাম ১২,৮১৯ টাকায় ঠেকেছে। এর পাশাপাশি, ১৮ ক্যারেট বা ৭৫০ বিশুদ্ধতার সোনার দামও গ্রামপ্রতি ২৭৫ টাকা কমে ১০,৯৮৫ টাকায় নেমে এসেছে।

সোনা ছাড়াও ধনতেরসের এই বিশেষ সকালে রুপোর বাজারেও নজিরবিহীন পতন লক্ষ করা গেছে। স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর বারের দাম ৬ নভেম্বর কমে দাঁড়িয়েছে ১,৮৪,৩৯০ টাকা, যা ৫ নভেম্বর ছিল ১,৯২,২১৩ টাকা। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি রুপোর দামে সরাসরি ৭,৮২৩ টাকার বিরাট পতন ঘটেছে। তবে ক্রেতাদের অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে, প্রকাশিত এই সমস্ত বাজার দর ৩ শতাংশ জিএসটি (GST) বাদ দিয়ে ধার্য করা হয়েছে। ফলে শো-রুম থেকে গয়না ক্রয়ের সময় নির্ধারিত মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য ট্যাক্স যুক্ত হলে চূড়ান্ত মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতিতে ধনতেরসের সঙ্গে সোনা ও রুপো কেনার ঐতিহ্যগত ও আধ্যাত্মিক যোগ অত্যন্ত গভীর। পাঁচ দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের সূচনা হয় এই ধনতেরসের মাধ্যমেই, যা কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে উদযাপিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই পবিত্র দিনে মা লক্ষ্মী এবং ধনসম্পদের দেবতা কুবেরের আরাধনা করলে সংসারে সুখ, শান্তি ও আর্থিক সমৃদ্ধি বজায় থাকে। সেই আবহমান বিশ্বাস থেকেই বহু যুগ ধরে ধনতেরসের দিনে সোনা, রুপো কিংবা নতুন পিতল-তামার বাসন কেনার রীতি প্রচলিত রয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের কলস হাতে ভগবান ধন্বন্তরির আবির্ভাবের স্মারক হিসেবেও এই তিথি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

তবে ধনতেরসের আনন্দ ও বিশ্বাসের মাঝেও সোনা কেনার আগে কিছু জরুরি বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক। প্রথমত, যেকোনো গয়না ক্রয়ের সময় অবশ্যই বিআইএস (BIS) হলমার্ক এবং ছয় ডিজিটের এইচইউআইডি (HUID) নম্বর যাচাই করে নেওয়া উচিত। সরকারি ‘BIS Care’ অ্যাপের মাধ্যমে অনায়াসেই এই নম্বরের সত্যতা যাচাই করা যায়। দ্বিতীয়ত, বিল করার সময় সোনার প্রকৃত মূল্য, মেকিং চার্জ এবং জিএসটি-র হিসাব পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। উৎসবের আবেগে ভেসে না গিয়ে নিজের পকেট ও বাজেট বুঝে তবেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *