পান চাষে মিলছে ৫০% সরকারি ভরতুকি! খরচে বিপুল কাটছাঁট করে ঘরে পান লাখ লাখ টাকা, হাওড়ায় দারুণ উদ্যোগ

হাওড়া জেলার পান চাষিদের ভাগ্য ফেরাতে এবং পানের ফলন দ্বিগুণ করে পকেটে লক্ষ্মীলাভের সুযোগ করে দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামল রাজ্য সরকার। খরচ বৃদ্ধি এবং শ্রমিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া পান চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হাওড়া জেলা উদ্যানপালন দফতর। বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক প্রযুক্তি এবং ৫০ শতাংশ সরকারি ভরতুকির সমন্বয়ে জেলাজুড়ে পান চাষকে আরও লাভজনক ও সুরক্ষিত করাই এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্য।

পুরনো বরজের খরচ সামলাতে নাজেহাল চাষিরা
হাওড়া জেলায় ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন ধরে বাঁশ, খড়ি, খড় ও পাটকাঠি দিয়ে পানের বরজ তৈরি হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এই সনাতন পদ্ধতিতে বরজ তৈরি ও প্রতি বছর তা মেরামত করতে বিপুল অর্থ খরচের পাশাপাশি চরম শ্রমিক সংকটে পড়তে হচ্ছে চাষিদের। ফলে ক্রমেই হাতছাড়া হচ্ছিল লাভের মুখ।

আধুনিক ‘শেডনেট’ প্রযুক্তিতে বাজিমাত
চাষিদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে পুরনো কৌশলের বদলে আধুনিক ‘শেডনেট’ (Shadenet) ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে জেলা উদ্যানপালন দফতর।

কেন এই শেডনেট? শেডনেট ব্যবহার করলে পানের বরজ তীব্র রোদ, কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টির হাত থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকে। প্রখর রোদে যেমন পাতা পুড়ে নষ্ট হয় না, তেমনই অতিবৃষ্টির সময় পানের ওপর বৃষ্টির জল সরাসরি আঘাত না করে ঝিরঝিরে আকারে ঝরে পড়ে।

ঝামেলামুক্ত ও দীর্ঘস্থায়ী: প্রথাগত খড়ের বরজের মতো এতে প্রতি বছর নতুন করে মেরামতের ঝামেলা বা অতিরিক্ত শ্রম খরচের দরকার হয় না।

৫০% সরকারি ভরতুকি ও আবেদনের পদ্ধতি
কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে সরকারের তরফে শেডনেট তৈরির খরচের ওপর প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় বা ভরতুকি প্রদান করা হচ্ছে। এমনকি যেসব পানের চাষির অল্প পরিমাণ জমি রয়েছে, তাঁরাও খুব সহজেই এই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাভবান হতে পারবেন।

হাওড়া জেলা উদ্যানপালন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি এই কল্যাণমূলক প্রকল্পের সুযোগ নিতে ইচ্ছুক পান চাষিদের নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। বিজ্ঞানের ছোঁয়ায় ও সরকারি সাহায্যে হাওড়ার পান চাষিরা আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়াবেন বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *