খোসাসহ শসা খাওয়া কি স্বাস্থ্যের পক্ষে অমৃত না কি বিষ? পুষ্টিবিদদের আসল সত্যিটা জানলে চমকে উঠবেন

স্যালাডের থালায় শসা থাকবে না, এমন বাঙালি বাড়ি পাওয়া মুশকিল। তবে শসা খাওয়ার সময় আমাদের অনেকেরই একটি চিরন্তন অভ্যাস রয়েছে—কেউ খোসা ছাড়িয়ে তবেই তা প্লেটে রাখেন, আবার কেউ বা পুষ্টির কথা ভেবে খোসা সমেতই শসা মুঞ্চে ফেলেন। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার এই ছোট্ট অভ্যাসটি আদৌ কতটা স্বাস্থ্যকর? নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে কোনো মারাত্মক ভুল? দুই পক্ষের ভিন্ন মতের এই ধোঁয়াশা দূর করতে খোদ পুষ্টিবিজ্ঞানের সাহায্য নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

খোসাতেই লুকিয়ে আসল পুষ্টি
পুষ্টিবিদদের মতে, শসার বেশিরভাগ পুষ্টিগুণ ও খনিজ পদার্থ আসলে আটকে থাকে এর খোসার ভেতরেই। এতে রয়েছে ভরপুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন কে এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই উপাদানগুলি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) শক্তিশালী করতে জাদুর মতো কাজ করে।

বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমানোর ডায়েটে রয়েছেন, তাঁদের জন্য খোসাসমেত শসা খাওয়া অত্যন্ত উপাদেয়। ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি খাওয়ার পর পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে, ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমে এবং শরীরের মেটাবলিজম বা বিপাক হারও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

বিপদের আসল কারণ: মোম ও কীটনাশক
তবে গল্পের কেবল একটাই দিক নেই, এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। বর্তমানের বাজারে ফলের ও শাকসবজির গ্ল্যামার বাড়াতে এবং তাজা দেখাতে বিক্রেতারা কৃত্রিম মোমের (Wax) প্রলেপ ব্যবহার করেন। এর সঙ্গে থাকে ফল পাকাতে ও পোকাড় হাত থেকে বাঁচাতে ব্যবহৃত প্রচুর পরিমাণে ক্ষতিকর রাসায়নিক ও কীটনাশক।

ফলস্বরূপ, বাজার থেকে কিনে আনা শসা না ধুয়ে সরাসরি খোসাসমেত খেয়ে ফেলা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কারণ এই বিষাক্ত মোমের আস্তরণ সাধারণ কলের জলে ধুলে সহজে উঠতে চায় না, যার জেরে অজান্তেই শরীরে বিষক্রিয়া (Toxic poisoning) ঘটতে পারে।

কীভাবে দূর করবেন এই ঝুঁকি?
শসার খোসার পুষ্টিগুণ পেতে হলে আপনাকে একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। রাসায়নিকের এই মারাত্মক প্রভাব কাটাতে রান্নার আগের ছোট্ট একটি টোটকা মেনে চলা জরুরি:

হালকা গরম জলে সামান্য পরিমাণ বেকিং সোডা বা ভিনিগার মিশিয়ে নিন।

এবার বাজার থেকে আনা শসাগুলি ওই জলে অন্তত ১০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন।

এরপর ভালো করে ঘষে পরিষ্কার জল দিয়ে ধুয়ে নিলে গায়ের ক্ষতিকর মোম ও কীটনাশক অনেকাংশেই দূর হয়ে যায়।

বিশেষ পরামর্শ: শসার গায়ে লেগে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিক যদি পুরোপুরি পরিষ্কার করতে পারেন, তবে খোসা সমেত খাওয়া শরীরের পক্ষে সবচেয়ে উপকারী। কিন্তু যদি সঠিকভাবে পরিষ্কার করার সুযোগ বা সময় না থাকে, তবে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খাওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *