অসমজুড়ে তীব্র তোলপাড়! গুয়াহাটি পাঁচখুন কাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এনকাউন্টারে খতম, রিভলভার ছিনতাইয়ের চেষ্টার মাশুল?

অসমে গুয়াহাটির এক অভিজাত হোটেলে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে একই পরিবারের পাঁচজনকে বর্বরোচিতভাবে খুনের ঘটনায় এবার চরম নাটকীয় মোড়। পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই এনকাউন্টারে মৃত্যু হলো মূল অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈয়ের। আসাম পুলিশের দাবি, অন্য একটি পুরনো মামলার তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত ঘনকান্তকে গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দূরে শিবসাগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় প্রসেসের অজুহাতে গাড়ির বাইরে বেরিয়ে পুলিশের রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। আর তাতেই জোরালো পাল্টা গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ বাহিনী।
মাঝরাতে প্রস্রাব করার অজুহাত ও ধস্তাধস্তি
পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৩টে ১২ মিনিট নাগাদ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। শিবসাগরের গৌরীসাগর এলাকায় যখন পুলিশের গাড়ির কনভয় পৌঁছায়, ঠিক তখনই অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈ গাড়ি থামিয়ে প্রস্রাব করার জন্য বিনীত আর্জি জানান।
পুলিশের গাড়ি থামতেই ঘনকান্তকে নামানো হয়, আর অমনি মুহূর্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন ওই দাগি অপরাধী। শুরু হয়ে যায় চরম ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিককে বাঁচাতে অন্য এক পুলিশকর্মী সরাসরি ঘনকান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। শিবসাগরের উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক পাপোরি চেটিয়া জানান, পুলিশের গুলিতে গুরুতর জখম ঘনকান্তকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মুখোমুখি সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মীও আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।
হোটেলের লিজ নিয়ে বিবাদ ও মর্মান্তিক ৫টি খুন
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে গুয়াহাটির বরা সার্ভিস এলাকার ‘বিলাস ইন’ নামক হোটেলে এক ভয়ঙ্কর নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকে গোটা দেশ। আচমকা হোটেলে ঢুকে তাণ্ডব চালিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করার অভিযোগ ওঠে এই ঘনকান্তের বিরুদ্ধে। নিহতরা হলেন হোটেলের মালকিন হেলেনা ভরালি, তাঁর ছেলে দেবর্ষি কাশ্যপ, দেবর্ষির স্ত্রী রিনিকি কাশ্যপ, পরিবারের আত্মীয় নারায়ণ দাস এবং হেলেনার ভাই ভূদেব ভরালি। এমনকি এই ঘটনায় পরিবারের আরও এক সদস্য সত্যেন্দ্র পাঠক আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, হোটেলের মালিকপক্ষ এবং লিজ় নিয়ে হোটেল পরিচালনা করা ঘনকান্তের মধ্যে বহুদিন ধরেই কোটি টাকার সম্পত্তি সংক্রান্ত আইনি ও পারিবারিক বিবাদ চলছিল। সেই আক্রোশ থেকেই পয়েন্ট ৩২ বোরের লাইসেন্সপ্রাপ্ত পিস্তল দিয়ে এই গণ-হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে অনুমান।
পুলিশি এনকাউন্টার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন
গণ-হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত এনকাউন্টারে খতম হওয়ার পর অসম পুলিশ স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেও, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশি হেফাজতে কীভাবে একজন দাগি আসামি পিস্তল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করার সাহস পেল এবং এনকাউন্টারের সঠিক পরিস্থিতি কী ছিল—তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় তদন্ত ও পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।