পাঁচতারা হোটেলের সুইমিং পুলে ২ বিদেশির করুণ মৃত্যু! পুলিশের তদন্তে উঠে এলো এমন সত্য, যা শুনে শিউরে উঠবেন!

জাতীয় প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরুর অত্যন্ত বিলাসবহুল ও অভিজাত পাঁচতারা ‘কনরাড হোটেল’ (Conrad Hotel)-এর সুইমিং পুলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই বিদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এলো। এই হাই-প্রোফাইল মামলার (Conrad Hotel Electrocution death Probe) যৌথ তদন্তে নেমে পুলিশ ও বিশেষজ্ঞরা গাফিলতির বড়সড় ইঙ্গিত পেয়েছেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সুইমিং পুলের জলের নীচে থাকা আলো বা আন্ডারওয়াটার লাইটিং ব্যবস্থা (Underwater LED Lights) এবং তার সংলগ্ন ভোল্টেজ পরিবর্তনকারী যন্ত্রে ভয়াবহ বিকলতার কারণেই এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে।
কীভাবে পুলে ছড়িয়ে পড়েছিল মরণঘাতী বিদ্যুৎ?
তদন্তকারী এক সিনিয়র পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই ভয়াবহ ঘটনার মূল কেন্দ্রে উঠে এসেছে একটি ‘সুইচ-মোড পাওয়ার সাপ্লাই’ (SMPS) ইউনিট।
বিশেষজ্ঞদের মতে:
-
SMPS ইউনিটে বিভ্রাট: সুইমিং পুলের জলের ভেতরের আলোর ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা এই SMPS ইউনিটটিতে শর্ট সার্কিট বা যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটে।
-
সরাসরি জলে বিদ্যুৎ: ইউনিট বিকল হয়ে যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে সংলগ্ন ভোল্টেজ ট্রান্সফর্মিং যন্ত্রটি অকেজো হয়ে পড়ে। যার ফলে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার বিদ্যুৎ কোনো বাধা ছাড়াই সরাসরি সুইমিং পুলের জলে ছড়িয়ে পড়ে।
-
অসাবধানতার বলিসবাইন: পুলে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই জলে ছড়িয়ে পড়া বিদ্যুতের তীব্র ধাক্কায় ছটফট করতে করতে মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে ওই দুই বিদেশি পর্যটকের।
যৌথ তদন্তে পুলিশ ও ইলেকট্রিক্যাল ইনস্পেক্টরেট
এই মর্মান্তিক ও চাঞ্চল্যকর সত্য সামনে আসার পরপরই পুরো ঘটনার তদন্তের পরিধি অনেক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ইলেকট্রিক্যাল ইনস্পেক্টরেট’ এবং বেঙ্গালুরুর হালাসুরু থানার পুলিশ যৌথভাবে হোটেলের বৈদ্যুতিক নকশা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করছে।
বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে সুরক্ষাবিধি অমান্য করার মতো মারাত্মক কোনো গাফিলতি ছিল কি না এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণে খামতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন।