‘ক্লাসে চলছিল পড়ানো, হাতে চেইন নিয়ে ধেয়ে এল যুবক!’ অন্ধ্রপ্রদেশের স্কুলে দুই ছাত্রীর ওপর হাড়হিম হামলা, ১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক!

অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুর জেলার একটি সরকারি স্কুলে ঘটে গেল এক চরম হাড়হিম ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দশম শ্রেণির ক্লাসরুমে শিক্ষিকা ও বাকি সহপাঠীদের সামনেই হুট করে ঢুকে পড়ে দুই ছাত্রীর ওপর আচমকা প্রাণঘাতী হামলা চালাল ২১ বছরের এক যুবক।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে এক বিস্ফোরক তথ্য—আক্রান্ত দুই ছাত্রী সম্পর্কে অভিযুক্তের নিজেরই ভাগ্নি! পুলিশ সূত্রের প্রাথমিক অনুমান, প্রেমপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার আক্রোশ ও পারিবারিক বিবাদের জেরেই এমন নৃশংস ও উন্মত্ত হামলা চালিয়েছে ওই যুবক। ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্তের খোঁজে ইতিমধ্যেই ১৫টি পৃথক পুলিশি দল গঠন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে।

কীভাবে ঘটেছিল এই রক্তঝরানো হামলা?

গত শনিবার সকালে অনন্তপুরের রাপ্তাদু গ্রামের জেলা পরিষদ হাই স্কুলে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি।

  • সময় ও পরিস্থিতি: সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ যখন দশম শ্রেণির ক্লাস পুরোদমে চলছিল, তখন আচমকাই হাতে শক্ত লোহার চেইন নিয়ে ক্লাসরুমে হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ে অভিযুক্ত যুবক।

  • মাসের পর মাস রেইস: পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম হেমন্ত ওরফে ডুম্মু (২১)। সে শ্রী সত্যসাই জেলার ধর্মাবরম মণ্ডলের নাগালুরের বাসিন্দা।

  • জীবন-মৃত্যুর লড়াই: যুবকের লাগাতার চেইন ও ধারালো বস্তুর আঘাতে গুরুতর রক্তাক্ত ও জখম হয় দুই ছাত্রী। দুজনের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক। প্রথমে দুজনকে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় এক ছাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

‘ভেবেছিলাম কাজ করতে এসেছে…’—ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন শিক্ষিকা

সেই মুহূর্তের প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষিকা রাজেশ্বরী শিউরে উঠে জানান, ঘটনার সময় স্কুলে কিছু মেরামতির কাজ চলছিল।

তিনি আতঙ্কের সুর নিয়ে বলেন:

“ক্লাসের দরজা খোলাই ছিল। হুট করে একজন ভেতরে ঢুকে পড়ে। ওর হাতে ঠিক কী ছিল, আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। স্কুলে কাজ চলার কারণে মনে হয়েছিল কোনো শ্রমিক হয়তো কাজের প্রয়োজনে এসেছেন। কিন্তু সে কারোর দিকে না তাকিয়ে সোজা ছাত্রীদের দিকে এগিয়ে যায় এবং হামলা চালায়।”

হঠাৎ এই আকস্মিক হামলায় ক্লাসে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রাণ বাঁচাতে বাকি ছাত্রছাত্রীরা চিৎকার করে ক্লাসের বাইরে ছুটতে থাকে। ঘটনার আকস্মিকতায় স্তব্ধ হয়ে পড়েন শিক্ষিকা নিজেও।

শিক্ষার্থীদের মানসিক ধাক্কা কাটাতে বিশেষ পদক্ষেপ সরকারের

স্কুলের অভ্যন্তরে এমন রক্তক্ষয়ী ঘটনার পর রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী নারা লোকেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ক্লাসের অন্য পড়ুয়াদের মনের তীব্র আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমা দূর করতে সরকার থেকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দশম শ্রেণির ওই ক্লাসের মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী এবং অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির সমস্ত ছাত্রীর বাড়িতে ২০ জন অভিজ্ঞ মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলর পাঠানো হয়েছে। এই প্রতিনিধি দল শিক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে এই কঠিন পরিস্থিতির মানসিক ট্রমা কাটাতে সাহায্য করছেন।

এদিকে, প্রকাশ্যে ক্লাসরুমে ঢুকে এই ধরনের নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত হেমন্তের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন সবাই।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *