‘ফসল নষ্ট হলেই সোজা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা!’ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অন্নদাতাদের জন্য বিরাট উপহার মোদী সরকারের!

দেশের অন্নদাতাদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হওয়া ফসলহানির ক্ষতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্কিম ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ (PMFBY) দেশের কৃষকদের কাছে এক বিরাট আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ভূমিকম্প, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, সামুদ্রিক ঝড় কিংবা খরার মতো অপ্রত্যাশিত প্রাকৃতিক তাণ্ডবে কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল নষ্ট হলে এই যোজনার মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে ও নামমাত্র প্রিমিয়ামে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ক্ষতিপূরণের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়।
কীভাবে মিলবে এই সুবিধা? রয়েছে ডিবিটি (DBT) ব্যবস্থা
দেশের কৃষকরা তাঁদের যে কোনো ফসলহানির খবর জানাতে এবং সরকারি ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে অফিশিয়াল পোর্টাল— pmfby.gov.in—ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ ব্যাপার হলো, আবেদন অনুমোদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ বা DBT ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের সমস্ত অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়।
এর ফলে কৃষকদের আর সরকারি দপ্তরে সশরীরে চক্কর কাটতে হয় না। পাশাপাশি, এই পোর্টালেই অনলাইনেই নিজেদের আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Status) যাচাই ও ট্র্যাক করা সম্ভব।
স্কিমের মূল বৈশিষ্ট্য ও আর্থিক বরাদ্দের পরিসংখ্যান
চলতি ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোজনার জন্য এক ধাক্কায় ১২,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের ২৫টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে খরিফ মরশুমে এই যোজনা সাফল্যের সঙ্গে কার্যকর রয়েছে।
-
বিশাল অংকের ক্ষতিপূরণ: গত ১০ বছরে এই যোজনা শুরুর পর থেকে ৯২.৪৬ কোটিরও বেশি কৃষকের আবেদন বিমার আওতাভুক্ত হয়েছে। এর বিপরীতে ২৬.৩৩ কোটিরও বেশি আবেদনের প্রেক্ষিতে কৃষকদের মোট ২.০৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতিপূরণ বিতরণ করা হয়েছে।
-
নামমাত্র প্রিমিয়াম হার: এই যোজনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী প্রিমিয়াম। খরিফ মরশুমে খাদ্যশস্য ও তৈলবীজের জন্য কৃষকদের মাত্র সর্বোচ্চ ২% প্রিমিয়াম দিতে হয়। রবি মরশুমে এই হার মাত্র ১.৫% এবং বাণিজ্যিক বা উদ্যানপালন ফসলের ক্ষেত্রে তা ৫%। বাকি অ্যাকচুয়ারিয়াল প্রিমিয়ামের সিংহভাগ (৯৫% থেকে ৯৮.৫%) কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে বহন করে।
-
দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি ও প্রযুক্তি: ফসল কাটার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই যাতে দাবির (Claims) নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয় এবং কৃষকরা ঋণের ফাঁদে না পড়েন, তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিমাণে ক্ষতি নির্ধারণ করতে এখন স্যাটেলাইট ইমেজিং, ড্রোন এবং অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
কোন কোন ঝুঁকি কভার করে এই যোজনা?
চাষাবাদ ও ফসল কাটার প্রতিটি স্তরে কৃষকদের সুরক্ষায় পিএমএফবিওয়াই (PMFBY) বিভিন্ন প্রধান ঝুঁকিগুলি কভার করে:
-
ফলন হ্রাস: খরা, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া, বন্যা, জলমগ্নতা, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত ও নানা রোগবালাইজনিত কারণে ফসলের ক্ষতি হলে এলাকাভিত্তিক সুরক্ষা পাওয়া যায়।
-
বীজ বপনে বাধা: প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বীমাকৃত কৃষকরা বীজ বপন করতে ব্যর্থ হলেও যদি ইতিমধ্যে কিছু খরচ হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তাঁরা বীমাকৃত অর্থের সর্বোচ্চ ২৫% পর্যন্ত দাবি করতে পারেন।
-
ফসল কাটার পরবর্তী ক্ষতি: ফসল কাটার পর শুকানোর জন্য মাঠে ছড়িয়ে রাখা অবস্থায় (cut-and-spread condition) নির্দিষ্ট কোনো ঘূর্ণিঝড় বা অকাল বৃষ্টির কারণে ক্ষতি হলে, ফসল কাটার পরবর্তী ১৪ দিন পর্যন্ত তা সুরক্ষার আওতায় থাকে।
-
স্থানীয় দুর্যোগ: শিলাবৃষ্টি, ভূমিধস, মেঘ ভাঙা বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে নির্দিষ্ট খামারে ক্ষতি হলে তা শর্তসাপেক্ষে কভার করা হয়। (তবে যুদ্ধ, পারমাণবিক ঝুঁকি, দাঙ্গা বা প্রতিরোধযোগ্য কারণে হওয়া ক্ষতি এই যোজনার আওতাভুক্ত নয়।)
‘মেরি পলিসি মেরে হাত’ (MPMH) প্রচারণা ও এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের উদ্যোগ
চলতি খরিফ মরশুমের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেরি পলিসি মেরে হাত’ (MPMH) প্রচারণায় এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (SBI General Insurance)-সহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি বীমা কোম্পানি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে সরাসরি শস্য বিমা পলিসি পৌঁছে দেওয়া এবং এই প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, আসাম, ওড়িশা, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং ঝাড়খণ্ড—এই ৯টি রাজ্যে এই পলিসি বিতরণের কাজ চলছে। এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের এমডি ও সিইও নবীন চন্দ্র ঝা এই প্রসঙ্গে জানান, “কৃষকরা যেন অনুভব করেন যে তাঁরা একা নন; অনিশ্চয়তার প্রতিটি মুহূর্তে পিএমএফবিওয়াই (PMFBY) তাঁদের পাশে রয়েছে—এই আত্মবিশ্বাস ও নিরাপত্তা বোধ তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”