‘আগে ১৯৮৪-র শিখ গণহত্যার জন্য ক্ষমা চান!’ দিল্লির আন্দোলন চলাকালীনই রাহুলকে বেনজির আক্রমণ বিজেপি সভাপতির!

একদিকে যখন দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে (Ramlila Maidan) বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট (INDIA Bloc) সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিশাল শক্তিপ্রদর্শন করছিল, ঠিক তখনই হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির পাল্টা পদযাত্রা ঘিরে চড়ল জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ।

‘ভোট চুরি’ ও নির্বাচন কমিশনের (ECI) নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীরা যখন কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ শানাচ্ছিল, তখন পাল্টা তোপ দাগলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন (Nitin Nabin)। প্রকাশ্য সভা থেকে রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার (1984 Anti-Sikh Riots) কথা মনে করিয়ে দিয়ে অবিলম্বে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি।

‘শিখ গণহত্যার জন্য আগে ক্ষমা চান রাহুল!’

রবিবার হরিয়ানার রোহতকে বিজেপির ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন নীতিন নবীন। রাষ্ট্রীয় লোক দল (RLD) সভাপতি জয়ন্ত চৌধুরীকে পাশে নিয়ে ছোটু রাম পলিটেকনিকের মাঠ থেকে মডেল টাউন পর্যন্ত এই বিশাল মিছিল শেষে বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন বিজেপি সভাপতি।

নীতিন নবীন বলেন:

  • অনুশোচনার দাবি: “১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বর শিখ সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর ভয়াবহ হত্যালীলা চলেছিল। ভোটার তালিকায় অনিয়মের মনগড়া অভিযোগ তুলে পথে নামার আগে এই কালিমালিপ্ত দিনের জন্য কংগ্রেসের হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।”

  • রাজীব গান্ধীর মন্তব্যের বিরোধিতা: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য—‘বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপে’—তুলে ধরে নীতিন দাবি করেন, কংগ্রেসের এই মন্তব্যের জন্য দেশবাসীর কাছে অনুশোচনা প্রকাশ করা উচিত।

‘বিদেশি শক্তির নির্দেশে দেশ অস্থির করার চেষ্টা করছেন রাহুল!’

রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি দাবি করেন, লোকসভার বিরোধী দলনেতা আসলে বিদেশি শক্তির নির্দেশে ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছেন।

তিনি কটাক্ষের সুর চড়িয়ে বলেন:

“জনতার বিপুল রায়ে তৈরি হওয়া নির্বাচিত মোদী সরকারকে কেউ সহজে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে না। হিমাচল প্রদেশ বা কর্ণাটকে জিতলে কংগ্রেসের কাছে গণতন্ত্র সুরক্ষিত, আর হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ বা পশ্চিমবঙ্গে হারলেই নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর দায় চাপায় তারা! এতেই স্পষ্ট যে দেশের মানুষের ওপর কংগ্রেসের কোনো আস্থা নেই।”

ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার রাহুলের অভিযোগ একঝাটকায় উড়িয়ে দিয়ে নীতিন প্রশ্ন তোলেন, ভোটার তালিকা থেকে ৩ কোটি অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ পড়তেই কেন কংগ্রেস ছটফট করছে? দেশের ১৪০ কোটি মানুষের বদলে ঠিক কাদের স্বার্থে লড়াই করছেন রাহুল? এই নিয়ে সংসদে বা প্রকাশ্য মঞ্চে যে কোনো সময় বিতর্কে বসতে বিজেপি প্রস্তুত বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।

১৯৭৫-এর ইতিহাস ও ইন্দিরা গান্ধীর রায় মনে করিয়ে পাল্টা চাবুক

ভোট কারচুপির অভিযোগে সরব হওয়া কংগ্রেসকে ১৯৭৫ সালের এলাহাবাদ হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন নীতিন নবীন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রায়বরেলী কেন্দ্রের নির্বাচন বাতিল হওয়া এবং নির্বাচনে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ভোটের রাজনীতিতে কারচুপির জনক আসলে কংগ্রেস নিজেই।

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচির মাধ্যমে রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের নেতারা যখন মোদী-শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন, ঠিক তার পাল্টা রোহতক থেকে বিজেপির এই বিষোদ্গার আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিকে যে আরও অগ্নিগর্ভ করে তুলবে, তা নিশ্চিত।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *