“মাঝের ওভারেই সব শেষ!” নিউজিল্যান্ডের কাছে হারের বিস্ফোরক শ্রেয়স আয়ার

শুরুটা বেশ ভালোই হয়েছিল। ইশান কিষণের সঙ্গে দুরন্ত জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাও করেছিলেন স্বয়ং অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। কিন্তু ম্যাচের মাঝের ওভারগুলিতে ধারাবাহিক উইকেট পতনের জেরে খেই হারিয়ে ম্যাচ থেকে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া। শুধু ব্যাটিং বিপর্যয়ই নয়, পাশাপাশি বোলিং এবং ফিল্ডিংয়েও একাধিক মৌলিক ভুল ও খামতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রবিবার হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হারের পর ঠিক এভাবেই দলের পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া করলেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার।

মাঝের ওভারেই বড় ধাক্কা ও ব্যাটিং বিপর্যয়

ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে শ্রেয়স জানান, ইনিংসের সূচনা দুর্দান্ত হলেও সেই পজিশনকে শেষ পর্যন্ত বড় স্কোরে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে দল। ইশানের সঙ্গে তাঁর জুটি দলকে ফের ছন্দে ফেরাচ্ছিল, কিন্তু ঠিক তার পরেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় নতুন ব্যাটারদের ওপর হঠাৎ করেই মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়।

হ্যামিল্টনের উইকেটের চরিত্রের কথা তুলে ধরে শ্রেয়স জানান, পিচে ব্যাট করা আদতে সহজ ছিল না। পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন ছিল, কারণ কখনও বল সুইং করছিল, কখনও আবার পিচে পড়ে হঠাৎ গতি হারিয়ে ফেলছিল। আবার কিছু ডেলিভারি অত্যন্ত দ্রুত ব্যাটে আসছিল। বিশেষ করে ‘হার্ড লেংথ’ সামলানো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তিনি এবং তিলক বর্মা প্রায় একই ধরনের প্রকৃতির বলে সাজঘরে ফেরেন। তবে এই কঠিন উইকেটেও ১৯৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা খুব একটা খারাপ স্কোর ছিল না বলেই দাবি করেন ভারতীয় অধিনায়ক।

বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে অসন্তোষ

তবে শুধু ব্যাটিং নয়, দলের বোলিং ও ফিল্ডিং বিভাগ নিয়ে যে তিনি একেবারেই সন্তুষ্ট নন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন শ্রেয়স। তাঁর পরিষ্কার দাবি, ফিল্ডিংয়ের সময় দলের বেশকয়েকজন ক্রিকেটারকে যথেষ্ট নিষ্প্রভ ও ক্লান্ত দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে লড়াই করতে গেলে এই নির্দিষ্ট জায়গাগুলিতে দ্রুত উন্নতি করা অত্যন্ত জরুরি।

শেষ দুই ম্যাচে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আগামী পরিকল্পনা

চলতি পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিনটি ম্যাচ জিতে আগেই ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করেছিল ভারত। শ্রেয়সের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সেই সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে দল কিছু নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চেয়েছিল। নিজেদের ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন পরিস্থিতির মুখে ফেলাটাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে হ্যামিল্টনে সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়নি। এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন টি-টোয়েন্টির অধ্যায় পিছনে ফেলে আসন্ন এক দিনের (ODI) সিরিজে সম্পূর্ণ মনোযোগ দিতে চান তিনি।

আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে নিউজিল্যান্ড

অন্যদিকে, সিরিজ হাতছাড়া হলেও শেষ দুই ম্যাচে দুর্দান্ত কামব্যাক করায় খুশি কিউই শিবির। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের মতে, গোটা সিরিজের লড়াই অত্যন্ত কাছাকাছি ছিল। বিশেষ করে প্রথম দুই ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফলাফল অন্য রকম হতেই পারত। তবে শেষ দুই ম্যাচে তাঁদের বোলাররা পরিস্থিতি দারুণভাবে বুঝে সঠিক লেংথ ও নিখুঁত ইয়র্কারে বল করেছেন। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচির মধ্যেও দলে একাধিক পরিবর্তন হওয়া সত্ত্বেও নতুন ক্রিকেটাররা নিজেদের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছেন বলে জানান স্যান্টনার। পাশাপাশি গ্লেন ফিলিপসের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়েরও উচ্চ প্রশংসা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের এই জমজমাট সিরিজ ৩-২ ব্যবধানে ভারতের পকেটে গেলেও, কিউইদের শেষের এই লড়াকু মানসিকতা তাদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *