‘যে দিন শিখদের পুড়িয়ে মারা হয়, সেই দিনই মেগা সভা!’ ১৯৮৪-র ক্ষত উসকে রাহুলকে নিশানা অমিত শাহের, তুঙ্গে বিতর্ক!

দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের ‘চলো দিল্লি’ মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বিরোধীরা যখন রাজধানীতে শক্তিপ্রদর্শন করছে, ঠিক তখনই চণ্ডীগড় থেকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণে বিদ্ধ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
রবিবার চণ্ডীগড়ে ২৫৮ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে শাহ দাবি করেন—১ নভেম্বরের মতো একটি কালো দিনে দিল্লির বুকে এই সভা আয়োজন আসলে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী হিংসার শিকার পরিবারগুলির ক্ষতে নুনের ছিটে দেওয়ার সমান।
‘হাজার হাজার শিখকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল’
১৯৮৪ সালের ১ নভেম্বরের ভয়াবহ ও মর্মান্তিক স্মৃতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শিখবিরোধী হিংসায় দিল্লিতে হাজার হাজার নির্দোষ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
অমিত শাহের তোপ:
-
ভয়াবহ অতীত: হাজার হাজার মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়, অগণিত শিশু অনাথ হয় এবং মহিলারা স্বামীহারা হন। বহু পরিবারকে বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল।
-
রাজীব গান্ধীর মন্তব্য তুলে আক্রমণ: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি পুরোনো মন্তব্যের কথা উল্লেখ করে শাহ বলেন, “হিংসার পর রাজীব গান্ধী বলেছিলেন—’বড় গাছ পড়লে মাটি কাঁপে’। টেলিভিশনে দেখা এই মন্তব্য আমি জীবনেও ভুলব না। হাজার হাজার শিখের মৃত্যুর পর এমন কথা কেবল কংগ্রেস নেতাদের পক্ষেই বলা সম্ভব।”
-
‘মহব্বত কি দুকান’-কে কটাক্ষ: রাহুল গান্ধীর বহুল চর্চিত স্লোগানকে বিঁধে শাহ বলেন, এমন একটি বেদনাময় দিনে উল্লাসের সভা করে কংগ্রেস আসলে ভালোবাসার বদলে ঘৃণাই ছড়াচ্ছে।
‘নরেন্দ্র মোদী সরকার এসেই ন্যায়বিচার দিয়েছে’
কংগ্রেস আমলের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে শাহ জানান, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই ১৯৮৪-র হিংসার সমস্ত বন্ধ মামলা নতুন করে খোলে। গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখে মূল অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়।
তিনি উল্লেখ করেন:
-
হিংসায় নিহত প্রতি পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে অর্থ সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।
-
কংগ্রেসের একাধিক প্রভাবশালী ও ক্ষমতাশালী নেতাকে গরাদের পেছনে পাঠানো সম্ভব হয়েছে।
-
রাজনৈতিক দলের উসকানিতে এমন ভয়াবহ হিংসা ভারতের ইতিহাসে বিরল এবং তা আর কোনোদিনও ঘটা উচিত নয়।
‘প্রধানমন্ত্রী হতে চাইলে মক পার্লামেন্টেই থাকুন!’
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ শানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন থাকলে সারা জীবন মক পার্লামেন্টেই বসে থাকুন, কারণ আপনাদের ক্ষমতায় আসার পালা আর কোনোদিনই আসবে না।” বিরোধীদের কাজ এখন কেবল মিথ্যা প্রচার করা, অরাজকতা তৈরি করা এবং সংসদের স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটানো।
উল্লেখ্য, শনিবারই বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘গণ-ইমপিচমেন্ট’ ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিল ‘ইন্ডিয়া’ শিবির। একদিকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদ, অন্যদিকে ১৯৮৪-র শিখ হিংসা টেনে শাহের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান—সব মিলিয়ে জাতীয় রাজনীতির ময়দান আজ পুরোপুরি অগ্নিগর্ভ।