“আমি মমতার সৈনিক আছি, থাকব!” বিধানসভায় শোভনদেবের মিষ্টিমুখ করে বিস্ফোরক বার্তা কাজল শেখের

দুর্গাপুজো মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে ফের সৌজন্য ও চাঞ্চল্যের আবহ। মঙ্গলবার বিধানসভার করিডরে সন্দীপন সাহার সঙ্গে কুণাল ঘোষের দীর্ঘ কথোপকথন রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছিল। আর এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে একেবারে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাত থেকে বিজয়ার মিষ্টি খেলেন ঋত-শিবিরের বিধায়ক কাজল শেখ। শুধু মিষ্টিমুখ করাই নয়, নিজেকে অকপটে ‘মমতার সৈনিক’ বলেও দাবি করলেন তিনি।
বিধানসভায় সৌজন্যের মিষ্টিমুখ
বিধানসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন ৬৪ জন বিধায়ক। সেই তালিকায় নাম ছিল হাসনের বিধায়ক কাজল শেখের-ও। পরবর্তীতে অনুব্রত মণ্ডলও সেই শিবিরে যোগ দেওয়ায় কেষ্ট-কাজল পুরোনো সংঘাতের আবহে কোণঠাসা হয়ে পড়েন কাজল। বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতির পদ থেকেও হঠাৎ পদত্যাগ করেন তিনি।
এই সমস্ত রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝেই বুধবার বিধানসভায় এক অন্য ছবি দেখা গেল। কালীঘাট শিবিরের প্রবীণ বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজে এগিয়ে এসে কাজলের হাত ধরে ঘরের ভেতর নিয়ে যান এবং নিজহাতে তাঁকে বিজয়ার মিষ্টি খাওয়ান।
কী বললেন শোভনদেব ও কাজল?
ঘটনা প্রসঙ্গে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, “আজ কাজলের সঙ্গে দেখা হলো। হাতটা ধরে ফেললাম। বললাম, চল তো… ঘরে নিয়ে গিয়ে মিষ্টি খাওয়ালাম। সবাই মিলে মিষ্টি খেলাম।” শুধু কাজল একা নন, মমতা শিবিরের প্রতি আনুগত্য রয়েছে এমন আরও অনেকেই যোগাযোগ রাখছেন বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, এই সাক্ষাতের পরেই ঘরওয়াপসির জল্পনা জোরালো হলেও তা উড়িয়ে দিয়ে কাজল শেখ স্পষ্ট করে জানান, “আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক আছি এবং থাকব। কোনো মিটিং-মিছিলে যাইনি। তবে ঋতব্রতকে আমরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিয়েছি।” উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই ঋত-শিবিরের হেভিওয়েট নেতার এই অবস্থান বদলের ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণের জন্ম দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার।