‘ভারতের ক্ষতি হলে ছাড়বো না’,-পাকিস্তানের সঙ্গে বাড়াবাড়ি সখ্য মুইজ্জুর! হুঁশিয়ারি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির

ভারতের নিকটতম প্রতিবেশী দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপের রাজনীতিতে ফের উত্তাপ বাড়ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট মহম্মদ মুইজ্জুর সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান সখ্য মোটেই ভালো চোখে দেখছে না দেশের একটি বড় অংশ। ১১ বছরের মধ্যে প্রথম কোনও মালদ্বীপের রাষ্ট্রপ্রধানের এই ইসলামাবাদ সফরকে কেন্দ্র করে আড়াআড়ি বিভক্ত দ্বীপরাষ্ট্রটির রাজনৈতিক মহল। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদসহ প্রধান বিরোধী নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বন্ধু দেশ ভারতের ক্ষতি বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে মুইজ্জু সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পাকিস্তান সফরে আগুনে ঘি মুইজ্জুর
নির্বাচনে ‘ইন্ডিয়া আউট’ (India Out) স্লোগান তুলে ক্ষমতায় আসা মুইজ্জু তিনদিনের পাকিস্তান সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির সহ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সংক্রান্তসহ ২০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের দীর্ঘদিনের বৈরী প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে মুইজ্জুর এই ঘনিষ্ঠতা মালে ও নয়াদিল্লির সুসম্পর্ককে আবার ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।
‘ভারতের নিরাপত্তায় আঘাত এলে ভুগতে হবে মালদ্বীপকেই’
আদ্দু সিটিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাশিদ। তাঁর মতে, না ভেবেচিন্তে নেওয়া এই পদক্ষেপের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে মালদ্বীপ।
নাশিদ স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে বলেন:
“মালদ্বীপের মতো ছোট দেশগুলির আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলা উচিত। ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে বলে নয়াদিল্লি যদি মনে করে, তার ভয়াবহ প্রভাব সরাসরি মালদ্বীপের ওপর এসে পড়বে।”
২০২৮-এর ভোটের আগেই ফের ভারত-বিরোধী চাল?
বিরোধী দল ‘মালদিভিয়ান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি’ (MDP)-র নেতা ও সাবেক বিদেশমন্ত্রী আবদুল্লা শাহিদের অভিযোগ, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে পাখির চোখ করে মুইজ্জু ফের ভারত-বিরোধী প্রচারের জমি তৈরি করছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪-এর মে মাসে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফল মালদ্বীপ সফরের পর দুই দেশের সম্পর্ক অনেকটা স্বাভাবিক হয়েছিল। কিন্তু মুইজ্জুর এই হঠকারী পাকিস্তান প্রেম নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ হওয়ার পাশাপাশি মালদ্বীপের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন ঝড়ের জন্ম দিয়েছে।