“স্কুলের অনুমোদন বিক্রি করে ৪০০ কোটি লুট!” জামিন খারিজ হতেই চরম বিপাকে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী!

বেসরকারি স্কুলগুলিকে সরকারি স্বীকৃতি ও স্থায়ী অনুমোদন দেওয়ার নামে শত শত কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো তামিলনাড়ুর প্রাক্তন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী তথা প্রভাবশালী ডিএমকে (DMK) নেতা আনবিল মহেশ পোইয়ামোজঝিকে। মাদ্রাজ হাইকোর্টে তাঁর দায়ের করা আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পরই সোমবার বিকেলে তামিলনাড়ু পুলিশ তড়িঘড়ি অভিযান চালিয়ে চেন্নাইয়ের আমিনজিকারাই এলাকা থেকে প্রাক্তন মন্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
ঘটনার পটভূমি ও ৪০০ কোটি টাকার মেগা কেলেঙ্কারি: মামলার শুনানিতে সরকারি আইনজীবী আদালতের সামনে এক বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্থায়ী অনুমতিপত্র দেওয়ার নামে এক বিশাল দুর্নীতিচক্র গড়ে তোলা হয়েছিল। এই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিপুল আর্থিক লেনদেন হয়েছে, যা বিভিন্ন প্রভাবশালী আধিকারিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের পকেটে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
সরকার পক্ষ দাবি করে:
-
এই বিশাল অংকের কালো টাকা মূলত মামলার দ্বিতীয় অভিযুক্ত মুথুকুমারের গাড়িচালক সুরেশের মাধ্যমে হাতবদল বা লেনদেন করা হয়েছে।
-
প্রমাণের সপক্ষে আদালতে একাধিক ছবি পেশ করে সরকারি আইনজীবী সওয়াল করেন যে, ঘটনার আসল সত্য ও মানি ট্রেইল উন্মোচন করতে আনবিল মহেশকে হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত জরুরি।
হাইকোর্টের প্রশ্ন ও আগাম জামিন খারিজ: মামলার শুনানি চলাকালীন মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি ভি লক্ষ্মীনারায়ণন অবশ্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন। জননেতা হওয়ার সুবাদে কারও সাথে ছবি থাকা বা অফিসে সরকারি আধিকারিকদের যাতায়াত থাকা মানেই তা অনৈতিক কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তবে পূর্ববর্তী তদন্তের নথি ও জমা পড়া প্রমাণের ভিত্তিতে সার্বিক বিবেচনা শেষে ২৬ অক্টোবর মাদ্রাজ হাইকোর্ট আনবিল মহেশের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে দেয়।
জামিনের আবেদন খারিজ হতেই পুলিশের গ্রেফতারির পথ প্রশস্ত হয় এবং তড়িঘড়ি আটক করা হয় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীকে। তামিলনাড়ু শিক্ষা দফতরের অন্তর্গত ডিরেক্টরেট অফ পাবলিক ইনস্ট্রাকশন (DPI) কেন্দ্রিক এই মেগা দুর্নীতি মামলা বর্তমানে সম্পূর্ণ আইনি ও বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।