এআই সুন্দরীর প্রেমে দেউলিয়া! ২০০০ কিমি বাস জার্নি করে পৌঁছাতেই যে সত্য সামনে এলো…

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য গতিতে উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বজুড়ে একের পর এক অদ্ভুত ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে আসছে। ডিজিটাল দুনিয়ার এই মারাত্মক ছদ্মবেশ ও প্রযুক্তির অপব্যবহার যে কীভাবে একজন মানুষের গোটা জীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দিতে পারে, তেমনই এক করুণ ও চোখ কপালে তোলার মতো ঘটনা সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। ভার্চুয়াল দুনিয়ায় মা হারা এক নিঃসঙ্গ ও একাকী যুবকের গভীর প্রেম, এবং সেই প্রেমের টানে জীবনের সমস্ত সঞ্চয় হারিয়ে এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির শিকার হওয়ার গল্প এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে। প্রেমিকার ডাকে সাড়া দিয়ে টানা ২,০০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর যে নির্মম সত্য উন্মোচিত হলো, তাতে ওই ব্যক্তির পায়ের তলার মাটি সরে গেছে।
সংবাদসংস্থা ‘ডেইলি স্টার ইউকে’-র রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে ৪৯ বছর বয়সী পেশায় দিনমজুর এদিমার রোচা মার্টিংশের সঙ্গে। মায়ের আচমকা প্রয়াণের পর জীবনের এক চরম নিঃসঙ্গতা ও বিষাদ ঘিরে ধরেছিল এদিমারকে। একা বেঁচে থাকার এই হাহাকারের মধ্যেই একদিন সোশাল মিডিয়ায় তাঁর নজরে আসে ‘জেসিকা অলিভিয়া’ নামের এক অত্যন্ত সুন্দরী ও আকর্ষণীয় তরুণীর প্রোফাইল। সোশাল মিডিয়ায় জেসিকার অনুরাগীর সংখ্যা ছিল তিন লক্ষেরও বেশি। সে নিয়মিত গ্রাম্য জীবন এবং নিজের বিশাল খামারবাড়ির মনোরম সব ভিডিও শেয়ার করত। তেমনই একটি বিশেষ ভিডিওতে জেসিকা সাধারণ মানুষকে তার খামারবাড়িতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস করার খোলা আমন্ত্রণ জানায়। নিঃসঙ্গ এদিমারের মনে হয়, এটাই হয়তো তাঁর অন্ধকার জীবনের এক নতুন ভোরের সূচনা! নিমেষের মধ্যেই জেসিকার রূপে ও মিষ্টি কথায় অন্ধ প্রেমে হাবুডুবু খেতে শুরু করেন তিনি।
জেসিকার রোমান্টিক বার্তা ও মিষ্টি প্রতিশ্রুতিতে সম্পূর্ণ অন্ধ হয়ে এদিমার তাকে সরাসরি সামনাসামনি দেখার সিদ্ধান্ত নেন। জেসিকা তাঁকে আশ্বস্ত করেছিল যে, দেখা করার পরপরই সে এদিমারের সমস্ত ভ্রমণ খরচ মিটিয়ে দেবে এবং ভবিষ্যতেও তাঁকে আর্থিক সাহায্য করবে। প্রেমিকার আশ্বাসে ভরসা রেখে এদিমার উত্তর ব্রাজিলের ইম্পেরাটিজ থেকে যাত্রা শুরু করেন। টানা ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর বাস জার্নি করে তিনি প্রায় ১,৩০০ মাইল (২,০০০ কিলোমিটারের বেশি) দূরে অবস্থিত বেলো হোরিজোন্টে শহরে পৌঁছান। এই দীর্ঘতম যাত্রায় নিজের সারাজীবনের সমস্ত জমানো পুঁজি, শেষ মাসের বেতন এবং শেষ সম্বলটুকুও টিকিটের পেছনে খরচ করে ফেলেন নিঃস্ব এদিমার।
তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আসল খেলা শুরু হয়। বেলো হোরিজোন্টে শহরের অলিতে-গলিতে জেসিকার ছবি দেখিয়ে তার সন্ধান করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানান যে, এই নামে বা চেহারার কোনো মহিলা ওই অঞ্চলে কোনোদিনই থাকেন না! পরবর্তীতে সাইবার বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে প্রকাশ পায় সেই ভয়ঙ্কর সত্য—যা শুনে এদিমারের চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। যাকে তিনি জীবনের শেষ আশ্রয় ও স্বপ্নের প্রেমিকা ভেবেছিলেন, রক্তমাংসের জগতে তার কোনো অস্তিত্বই নেই! পুরো প্রোফাইলটি ছিল অত্যাধুনিক এআই (AI) দিয়ে তৈরি সম্পূর্ণ একটি ফেক বা কৃত্রিম ডিজিটাল ছদ্মবেশ। এমনকি ভিডিওতে দেখা সুন্দরী নারীটিও ছিল কেবল একটি কম্পিউটারের তৈরি অ্যালগরিদম।
পকেটে এক ফুটো কড়িও না থাকায় এবং প্রতারণার নির্মম সত্য জানতে পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ওই দিনমজুর। শেষমেশ বেলো হোরিজোন্টের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্র তাঁকে উদ্ধার করে খাবার, থাকার জায়গা এবং বাড়ি ফেরার ট্রেনের বন্দোবস্ত করে দেয়। এই চরম অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এদিমার সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, নিঃসঙ্গতা মানুষকে কতটা অন্ধ করে দিতে পারে এই ঘটনা তার প্রমাণ, যা এআই প্রতারকদের জন্য অত্যন্ত সহজ শিকার তৈরি করছে।