১৯৯৮ সালের রেকর্ড ভাঙল! এক ঘোষণায় হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল শেয়ার বাজার, বড় বিপদে ইন্দোনেশিয়া!

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতি ইন্দোনেশিয়ার শেয়ার বাজারে দেখা দিয়েছে এক অভূতপূর্ব ও ভয়াবহ ধস। শুক্রবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এমন ত্রাহি ত্রাহি রব ও ব্যাপক বিকवाली শুরু হয় যে গত প্রায় তিন দশকের সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মূল কারণ হলো গ্লোবাল ইনডেক্স ফার্ম এমএসসিআই (MSCI)-এর একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও কঠোর ঘোষণা। ওই বিশ্বখ্যাত সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, ইন্দোনেশিয়ার বর্তমান আর্থিক পরিকাঠামো আর ‘ইমर्जিং মার্কেট’ বা উদীয়মান বাজারের মর্যাদার যোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক এই সংস্থার একটিমাত্র সিদ্ধান্ত এবং বিবৃতির পরেই ইন্দোনেশিয়ান স্টক মার্কেটের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে এবং দেশ থেকে লক্ষ কোটি ডলারের বিদেশি বিনিয়োগ হু হু করে দেশ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

শুক্রবার সকালের ট্রেডিং সেশনটি জাকার্তা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য এক দুঃস্বপ্নের চেয়েও ভয়াবহ ছিল। বাজার খুলতেই বেঞ্চমার্ক সূচক এক ঝটকায় প্রায় ৮ শতাংশের বেশি নিম্নমুখী হয়। পতনের গতি এতটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল যে তাৎক্ষণিকভাবে বাধ্য হয়ে প্রশাসনকে ৩০ মিনিটের জন্য লেনদেন পুরোপুরি স্থগিত রাখতে হয়। এরপর যখন পুনরায় ব্যবসা শুরু হয়, তখনও বিক্রির চাপ একবিন্দুও কমল না। মুহূর্তের মধ্যে সূচক ১১ শতাংশের বেশি অতলে তলিয়ে যায়। ২০২০ সালের নভেম্বরের পর এটিই সর্বনিম্ন স্তর। আর যদি একদিনের একক পতনের হিসেবে বিচার করা হয়, তবে ১৯৯৮ সালের ভয়াবহ আর্থিক সংকটের পর এটিই ইন্দোনেশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শেয়ার বাজার ক্র্যাশ। এই লাগাতার রক্তক্ষয়ী পতনের জেরে চলতি বছরে জাকার্তার শেয়ার বাজারগুলোর সার্বিক মান প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে এটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম নিকৃষ্ট পারফরম্যান্সকারী শেয়ার বাজারে পরিণত হয়েছে।

বাজারের এই ঐতিহাসিক সুনামির ধাক্কায় দেশের প্রথম সারির শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোও নিজেদের টিকিয়ে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়া, ব্যাংক রয়্যাত ইন্দোনেশিয়া এবং ব্যাংক মন্দিরের মতো জায়ান্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত খাদের কিনারায় এসে ঠেকেছে। শুধু শেয়ার বাজারই নয়, এই সামগ্রিক ধাক্কায় ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় মুদ্রার মানও মারাত্মকভাবে মার খেয়েছে। মার্কিন ডলারের বিপরীতে মূল্য হারিয়ে ইন্দোনেশিয়ান রুপি সর্বকালের অন্যতম দুর্বল অবস্থানে পৌঁছে গেছে। এমএসসিআই-এর এই সম্ভাব্য ডাউনগ্রেড কার্যকর হলে ইন্দোনেশিয়া আর্জেন্টিনা, ফিলিস্তিন বা ইউক্রেনের মতো দেশের দীর্ঘ সারিতে গিয়ে দাঁড়াবে, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য এক বিশাল অশনি সংকেত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *