১০ মিনিটে হোম ডেলিভারি আর নয়! এবার কড়া হচ্ছে FSSAI, অনলাইন ফুড অ্যাপগুলোর জন্য আসছে কঠোর নিয়ম

মাত্র ১০ মিনিটে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও খাবার দাবার ঘরে পৌঁছে দেওয়ার যুগ সম্প্রতি দারুণ জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা FSSAI (ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া)। ব্লুমবার্গের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্লিংকিট (Blinkit), সুইগি ইনস্টামার্ট (Swiggy Instamart) এবং অ্যামাজন নাও (Amazon Now)-এর মতো দ্রুত ডেলিভারি প্রদানকারী বা কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য নিয়মে বড়সড় কড়াকড়ি আনছে এই নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
মূলত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলিতে বিক্রি হওয়া খাদ্যপণ্যগুলির মান, সঠিক তথ্য এবং ভুল দাবির প্রবণতার ওপর লাগাম টানতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। FSSAI-এর সিইও রজিত পুন্নহানি জানিয়েছেন, অনলাইন গ্রোসারি ও কুইক কমার্স ব্যবসাগুলিকে আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনতে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি অত্যন্ত জরুরি।
খাবারের লেবেলিং থেকে শুরু করে ডार्क স্টোরের ওপর নজরদারি:
প্রস্তাবিত নতুন নিয়মগুলি কার্যকর হলে অনলাইন ফুড অ্যাপগুলিকে বেশ কিছু কড়া নির্দেশিকা মানতে হবে:
পণ্যের বিস্তারিত তথ্য: খাদ্যপণ্যগুলির অনলাইন তালিকায় উৎপাদনের তারিখ (Manufacturing Date), মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ (Expiry Date) এবং ব্যাচ নম্বর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক হতে পারে।
ভুল দাবির জন্য জবাবদিহি: কোনো কোম্পানি বা প্ল্যাটফর্ম যদি পণ্যের গুণগত মান নিয়ে কোনো ভ्रामক বা ভুয়া দাবি করে, তবে তার জন্য সরাসরি ওই অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেও কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
ডার্ক কিচেন ও স্টোরের কড়া চেকিং: যেসব জায়গা থেকে খাবার তৈরি বা সরবরাহ করা হয়, সেই সমস্ত ‘ডার্ক কিচেন’-এর সঠিক ছবি ও ঠিকানা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি, ফ্রোজেন ফুড বা জমানো খাবার সঠিক তাপমাত্রায় এবং নিরাপদ পরিস্থিতিতে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডার্ক স্টোরগুলিতেও নিয়মিত পরিদর্শন চালানো হবে।
আগেও কাঠগড়ায় পড়েছে একাধিক কোম্পানি:
গত কয়েক মাসে FSSAI খাদ্য সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে বলবৎ করতে তদন্তের পরিধি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে ব্লিংকিট, সুইগি ইনস্টামার্ট, ফ্লিপকার্ট এবং অ্যামাজনের মতো বড় বড় সংস্থার ভারতীয় শাখাগুলিকে ভুয়া ব্র্যান্ডিং, নিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি এবং বৈধ লাইসেন্সের নিয়মে গড়বড় থাকার অভিযোগে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। শুধু কুইক কমার্স কোম্পানিই নয়, নেসলে ইন্ডিয়া (Nestle India), পেপসিকো (PepsiCo), ডাবর ইন্ডিয়া (Dabur India)-র মতো নামী খাদ্য প্রস্তুতকারক সংস্থা থেকে শুরু করে বড় বড় হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলির বিজ্ঞাপনের দাবি, লেবেলিং এবং শিশুদের খাবারের বিপণন পদ্ধতি নিয়েও কড়া নজর রাখছে FSSAI।
দ্রুততার যুগে ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবসার রমরমার মাঝে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষাকে সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এই কঠোর নীতি বড় ভূমিকা নিতে চলেছে।