সন্ত্রাস ও ড্রাগ কারবারের বিরুদ্ধে অমিত শাহের মাস্টারপ্ল্যান! বিমসটেক বৈঠকে দিলেন কড়া বার্তা

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব রক্ষায় সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি অর্থায়ন এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াই করার আহ্বান জানালেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিমসটেক (BIMSTEC) সদস্য দেশগুলির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রথম বৈঠকে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই কড়া বার্তা দেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলি এই অঞ্চলে কোনো আশ্রয় না পায় এবং তাদের আস্তানা, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বা আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে না পারে।
ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি মেনে চলে উল্লেখ করে অমিত শাহ জোর দিয়ে বলেন, বিমসটেক দেশগুলির নিরাপত্তা একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত। প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অন্য সদস্য দেশগুলির সুরক্ষাতেও অবদান রাখে। এই যৌথ দায়িত্বই পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতাকে আরও মজবুত করে তোলে।
জঙ্গি নেটওয়ার্কের আর্থিক রসদ বন্ধের ডাক:
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমসটেকভুক্ত দেশগুলিকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে একবদ্ধ সংকল্প নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জঙ্গিরা যাতে কোনো সদস্য দেশে আশ্রয় না নিতে পারে, গোপন ডেরা বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে না পারে এবং অন্য দেশের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাতে সম্পদ সংগ্রহ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শাহ সমস্ত সদস্য দেশকে তাদের নিজস্ব জাতীয় আইন ও কার্যকর চুক্তি অনুযায়ী পারস্পরিক আইনি সহায়তা এবং অপরাধীদের প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।
গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে জোর:
সন্ত্রাসবাদ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করে অমিত শাহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুল তথ্য আদান-প্রদানের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, তাদের সহযোগী, অপরাধী নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং আন্তঃসীমান্ত কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত যাচাইকৃত তথ্য সময়মতো শেয়ার করা উচিত। এতে কেবল সন্দেহভাজন নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করা সহজ হবে না, তাদের উৎস ও কার্যকলাপে আঘাত হানাও সম্ভব হবে।
মাদক কারবারের টাকাতেই কি পুষ্ট হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ?
বৈঠকে মাদক পাচারকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন অমিত শাহ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই সমস্যার সমাধান কোনো একক দেশের পক্ষে সম্ভব নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলকে একসঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাদক কারবার থেকে আসা অবৈধ অর্থ সংগঠিত অপরাধকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া মাদক তৈরির রাসায়নিকের অবৈধ ব্যবহার এবং ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে।
কী এই বিমসটেক (BIMSTEC)?
‘বে অফ বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টোরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন’ বা বিমসটেক হলো বঙ্গোপসাগর ও তার সংলগ্ন অঞ্চলের সাতটি দেশের একটি আঞ্চলিক সংস্থা। এর সদস্য দেশগুলি হলো—ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, মায়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ড। সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি করাই এই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই প্রথম ঐতিহাসিক বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার ও আন্তঃসীমান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক জোরালো বার্তা দিল ভারত।