উচ্চমাধ্যমিক পাসের পরেই সোজা সেনায় অফিসার! মিলবে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি এবং লক্ষাধিক টাকার বেতন

দ্বাদশ শ্রেণি উত্তীর্ণ হয়ে যারা দেশের সেবায় নিয়োজিত থেকে সরাসরি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনড অফিসার হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, তাঁদের জন্য এক দুর্দান্ত সুযোগ সামনে এসেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে ‘১০+২ টেকনিক্যাল এন্ট্রি স্কিম’ (TES-57)-এর অধীনে কমিশনড অফিসার পদে নিয়োগের জন্য অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী ১৪ই অক্টোবর ২০২৬ থেকে এই পদের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে আগামী ১২ই নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। যোগ্য ও ইচ্ছুক প্রার্থীরা সংস্থার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট joinindianarmy.nic.in-এ গিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
কারা আবেদন করতে পারবেন? (শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স)
সেনাবাহিনীর এই বিশেষ এন্ট্রির জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের অবশ্যই পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিত (PCM) বিষয় নিয়ে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করতে হবে এবং উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম ৬০% নম্বর থাকতে হবে।
অন্যান্য শর্ত: এই পদে শুধুমাত্র অবিবাহিত পুরুষ প্রার্থীরাই আবেদন করার যোগ্য। এছাড়াও ২০২৬ সালের জেইই মেইন (JEE Main 2026) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।
বয়সসীমা: আবেদনকারী প্রার্থীদের বয়স অবশ্যই ১৬.৫ বছর থেকে ১৯.৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
প্রশিক্ষণের সময়কালে তাক লাগানো সুযোগ-সুবিধা
আগামী ২০২৭ সালের জুলাই মাস থেকে এই TES-57 কোর্সের প্রশিক্ষণ শুরু হবে। এই পদের জন্য আবেদন করার জন্য কোনো রকম আবেদন ফি বা চার্জ লাগবে না। নির্বাচিত প্রার্থীরা চার বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সম্মানজনক একটি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করার সুযোগ পাবেন।
প্রশিক্ষণ চলাকালীন ক্যাডেটদের প্রতি মাসে ৫৬,১০০ টাকা করে স্টিপেন্ড বা উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করার পর প্রার্থীরা সরাসরি ‘লেফটেন্যান্ট’ (Lieutenant) পদে স্থায়ী কমিশন লাভ করবেন। কমিশনপ্রাপ্ত হওয়ার পর লেভেল ১০ বেতন অনুযায়ী তাঁদের বার্ষিক সিটিসি (CTC) আনুমানিক ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কীভাবে হবে নির্বাচন প্রক্রিয়া?
আবেদনকারীদের দ্বাদশ শ্রেণির প্রাপ্ত নম্বর এবং জেইই মেইন স্কোরের ওপর ভিত্তি করে একটি শর্টলিস্ট তৈরি করা হবে। সংক্ষিপ্ত তালিকায় নাম থাকা প্রার্থীরা পরবর্তী ধাপে এসএসবি (SSB) ইন্টারভিউয়ের ডাক পাবেন। ইন্টারভিউয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের কঠোর ডাক্তারি পরীক্ষা বা মেডিক্যাল টেস্ট দিতে হবে। সমস্ত ধাপে সফলভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই চূড়ান্ত নিয়োগপত্র দেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণের সময় প্রার্থীর পছন্দ ও যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ারিং শাখা বরাদ্দ করা হয়—যেমন পুনের সিএমই-তে সিভিল ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মহোর এমসিটিই-তে টেলিকমিউনিকেশন ও আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সেকেন্দ্রাবাদের এমসিইএমই-তে ইলেকট্রনিক্স ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। ডিফেন্স সেক্টরে কেরিয়ার গড়ার এটি এক দারুণ সুযোগ।