পুজোর মুখে গাইঘাটায় হাড়হিম কাণ্ড! ১৩ বছরের কিশোরীকে ঘরে ডেকে নারকীয় অত্যাচার, এলাকায় তীব্র জনরোষ

দেবীপক্ষের সূচনাতেই নারী সুরক্ষার প্রশ্নে ফের বড়সড় ধাক্কা। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানা এলাকায় এক ১৩ বছরের নাবালিকাকে ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় নির্যাতিতাকে উদ্ধার করে তড়িঘড়ি বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এই নারকীয় ঘটনার খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযুক্তকে হাতেনাতে পাকড়াও করে বেধড়ক গণধোলাই দেওয়ার পর তাকে তুলে দেওয়া হয় পুলিশের হাতে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করেছে।
একাকীত্বের সুযোগ নিয়ে নৃশংস ঘটনা
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা নাবালিকা স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার সময় তার বাবা-মা কাজের সূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফাঁকা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী যুবক নানা প্রলোভন দেখিয়ে এবং খাবার দেওয়ার নাম করে ওই কিশোরীকে নিজের নির্জন ডেরায় ডেকে নিয়ে যায়।
অভিযোগ, ঘরে ঢোকামাত্রই দরজা বন্ধ করে কিশোরীর ওপর চরম শারীরিক ও যৌন নির্যাতন চালানো হয়। নাবালিকার আর্তচিৎকার চাপা দিতে তার মুখ চেপে ধরা হলেও তীব্র গোঙানির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা।
ছুটে এলেন গ্রামবাসীরা, হাতেনাতে পাকড়াও
অস্বাভাবিক শব্দ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ঘরের দরজা ধাক্কা দিতেই অভিযুক্তের মুখোশ খুলে যায়। ঘরের ভেতর নাবালিকাকে রক্তাক্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে গ্রামবাসীদের রাগ সপ্তমে পৌঁছায়।
-
উত্তেজিত জনতার প্রহার: ঘটনাস্থল থেকেই অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা। ক্ষিপ্ত জনতা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে।
-
তড়িঘড়ি পুলিশি হস্তক্ষেপ: ঘটনার খবর পেয়ে গাইঘাটা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে কোনোমতে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
-
হাসপাতালে কিশোরী: গুরুতর জখম নাবালিকাকে দ্রুত উদ্ধার করে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে তার চিকিৎসা ও মেডিক্যাল পরীক্ষা চলছে।
কড়া ধারায় মামলা ও এলাকায় চাপা উত্তেজনা
পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় ও পকসো আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘৃণ্য ঘটনায় অভিযুক্তের ফাঁসি বা চরম শাস্তির দাবিতে গাইঘাটা থানা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। উৎসবের মরশুমে এমন নৃশংস ঘটনায় পুরো গাইঘাটা এলাকা জুড়েই এখন থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র ক্ষোভের আবহ।