দিল্লিতে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে তুলকালাম আন্দোলন, পঞ্জাবে এসআইআর মেনে নিল কংগ্রেস-আপ! রাজনীতির দ্বিমুখী চালে ফাঁস বড় রহস্য

দিল্লিতে যখন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ও ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে রাজপথে নেমে সুপ্রিম কোর্ট অভিযান চালাচ্ছে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি, ঠিক তখনই পঞ্জাবে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। জাতীয় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সংঘাতের আবহ তৈরি হলেও, পঞ্জাবে নির্বাচন কমিশনের সেই বিতর্কিত এসআইআর মেনে নিয়েই চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় সম্মতি দিল কংগ্রেস ও শাসকদল আপ। বিরোধীদের এই নাটকীয় দ্বিমুখী অবস্থান প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবারই পঞ্জাবের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) অনিন্দিতা মিত্র আনুষ্ঠানিকভাবে এসআইআর প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। কমিশনের পেশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ২.০১ কোটি বৈধ ভোটার নথিভুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তনকারী এবং ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণের কারণে পূর্ববর্তী তালিকার তুলনায় প্রায় ৬.৩ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, জাতীয় স্তরে যে প্রক্রিয়াকে ‘ভোট চুরি’ ও ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে দেগে দেওয়া হচ্ছে, পঞ্জাবের মাটিতে সেই প্রক্রিয়ার ফলাফল মেনে নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির আনুষ্ঠানিক বৈঠকে কোনো বড় ধরনের বিরোধিতা বা আপত্তি তোলেনি রাজ্য কংগ্রেস কিংবা ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টি।
বিরোধীদের এই অবস্থান বদলকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট দাবি, রাজধানীতে রাহুল গান্ধী ও অরবিন্দ কেজরিওয়ালরা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে যেখানে স্বচ্ছ তথ্য সামনে আসছে, সেখানেই তাঁদের সমস্ত অভিযোগ ধোপে টিকছে না।
একদিকে দিল্লির রাজপথে তেরঙ্গা হাতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে বিরোধীদের প্রতিবাদ মিছিল, অন্যদিকে সীমান্ত রাজ্যে নিঃশব্দে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর চূড়ান্ত তালিকাকে মেনে নেওয়া—কংগ্রেস ও আপ-এর এই স্ববিরোধী অবস্থান ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক উসকে দিল।