পুজোর মুখে বাংলায় হাড়হিম ডেঙ্গি আতঙ্ক! আক্রান্ত ১০ হাজার পার, প্রাণ গেল ১৪ জনের; স্বাস্থ্য ভবনের চরম সতর্কবার্তা

মহালয়া পেরিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হতেই উৎসবের আলোয় সেজে উঠছে গোটা বাংলা। কেনাকাটা আর প্যান্ডেল হপিংয়ের উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন আমজনতা। কিন্তু এই মহা উৎসবের আনন্দের মাঝেই রাজ্যবাসীর ঘুম উড়িয়ে দিল ডেঙ্গির মারাত্মক চোখরাঙানি। উৎসবের মরশুমে রাজ্যে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে রীতিমতো মাথায় হাত বিশেষজ্ঞদের—চলতি বছরে ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা পার করেছে ১০ হাজার, আর প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন!
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আর এক মুহূর্তও ঢিলেমি দিতে নারাজ প্রশাসন। নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, পঞ্চায়েত এবং পুজো কমিটিগুলিকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।
এক নজরে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান:
স্বাস্থ্য ভবনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী:
-
আক্রান্তের সংখ্যা: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ১০ হাজার ১৭৭-এ।
-
মৃত্যুমিছিল: এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গিতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন রোগী। এর মধ্যে শুধুমাত্র অক্টোবরের শুরুতেই মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
-
সবচেয়ে বেশি উপদ্রব: উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় সংক্রমণের মাত্রা সবচেয়ে উদ্বেগজনক। উত্তর ২৪ পরগনার বিধাননগর, বাগদা, বনগাঁ ও দেগঙ্গায় আক্রান্তের হার দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৮০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ১৮ জনের শরীরে মিলেছে সংক্রমণ।
পুজো কমিটিগুলির ওপর কড়া নজরদারি ও নির্দেশিকা
মণ্ডপে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় জমে ওঠার আগেই পুজো উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য দফতর। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষার পরবর্তী স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় জমে থাকা জলে দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে এডিস মশা।
স্বাস্থ্য দফতরের কড়া নির্দেশ: ১. মণ্ডপ ও প্যান্ডেল সাজানোর কাজে ব্যবহৃত থার্মোকল, প্লাস্টিকের কাপ, মাটির ভাঁড় বা অন্যান্য জিনিসপত্র যত্রতত্র ফেলে রাখা যাবে না। দ্রুত জঞ্জাল অপসারণ করতে হবে। ২. মণ্ডপের আনাচে-কানাচে বা বাঁশের খাঁজে যাতে এক ফোঁটাও বৃষ্টির জল জমতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে পুজো কমিটিকে। ৩. প্যান্ডেল চত্বরে নিয়মিত ব্লিচিং পাউডার ও মশা মারার তেল স্প্রে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ: “কোনো ঢিলেমি বরদাস্ত নয়”
নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ডেঙ্গির উপদ্রব জারি থাকার আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা। তাই সমস্ত পুরসভা ও জেলা প্রশাসনকে সাফাই অভিযান জোরদার করার কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। সামান্য জ্বর, গাঁটে ব্যথা বা উপসর্গ দেখা দিলেই প্যারাসিটামল খেয়ে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে রক্ত পরীক্ষা করানোর কড়া পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। উৎসবের আনন্দ যাতে বিষাদে পরিণত না হয়, তার জন্য সচেতনতাই এখন প্রধান হাতিয়ার।