ATM-এ টাকা তুলতে গিয়েই অদ্ভুত ফোঁসফোঁস শব্দ! মেশিনের পেছনে তাকাতেই হাত-পা ঠান্ডা গ্রাহকদের, হাড়হিম কাণ্ড ধূপগুড়িতে

পুজোর মুখে নতুন জামাকাপড় ও কেনাকাটার জন্য এটিএম (ATM) কাউন্টারে টাকা তুলতে গিয়েছিলেন সাধারণ গ্রাহকরা। কিন্তু টাকা হাতে পাওয়ার আগেই এটিএমের ভেতর তাঁদের জন্য যে কী ভয়ঙ্কর বিস্ময় অপেক্ষা করছিল, তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি কেউ! মেশিনের পেছনে অদ্ভুত এক শব্দ শুনে নজর দিতেই আত্মারাম খাঁচা হওয়ার জোগাড়। এটিএম মেশিনের ঠিক পেছনেই কুণ্ডলী পাকিয়ে ফণা তুলে বসে রয়েছে বিশালাকার এক বিষধর গোখরো সাপ!

রবিবার দুপুরে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের এটিএম কাউন্টারে এই হাড়হিম করা ঘটনাটি ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে গ্রাহকদের চিৎকারে গোটা চত্বরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এটিএমের ভেতর হঠাৎ কী ঘটেছিল?

জানা গিয়েছে, পুজোর কেনাকাটার জন্য রবিবার দুপুরে ধূপগুড়ি শহরের ওই এটিএমে বেশ কয়েকজন গ্রাহক টাকা তোলার জন্য ঢোকেন। কাউন্টারের ভেতরে তখন চারপাশ নিস্তব্ধ। কার্ড পাঞ্চ করার সময়ই এটিএম মেশিনের পেছনের অন্ধকার কোণ থেকে একটানা অদ্ভুত এক ফোঁসফোঁস শব্দ ভেসে আসতে থাকে।

শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে একজন গ্রাহক মেশিনের পেছনের ফাঁকা জায়গায় তাকাতেই দেখতে পান, প্রায় চার ফুট লম্বা এক জ্যান্ত গোখরো ফণা উঁচিয়ে সতর্ক ভঙ্গিতে বসে রয়েছে। দৃশ্যটি দেখামাত্রই ভয়ে টাকা তোলার কথা ভুলে গিয়ে এটিএম থেকে বাইরে দৌড়ে বের হয়ে আসেন উপস্থিত সকলেই। মুহূর্তের মধ্যে এটিএম চত্বরে পথচলতি মানুষের ভিড় জমে যায় এবং চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

প্রায় এক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান

ঘটনার আকস্মিকতায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে অবিলম্বে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় বন্যপ্রাণী ও পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ‘ডুয়ার্স নেচার অ্যান্ড স্নেক লাভার অর্গানাইজেশন’-কে। খবর পাওয়া মাত্রই সংগঠনের অভিজ্ঞ সদস্যরা প্রয়োজনীয় উদ্ধারকারী সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছান।

যেহেতু এটিএমের ভেতরের জায়গা অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং চারপাশে অসংখ্য বিদ্যুতের তার ও মেশিনারি ছিল, তাই উদ্ধারকাজ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তবে অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সাপটিকে কোনো ক্ষতি না করে অক্ষত অবস্থায় খাঁচাবন্দি করা সম্ভব হয়।

হাফ ছেড়ে বাঁচল এলাকা

উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, সাপটি অত্যন্ত বিষধর গোখরো এবং লম্বায় প্রায় চার ফুট। কোনও কারণে সামান্য অসাবধানতায় কারো গায়ে সাপের ছোঁয়া লাগলে বা পা পড়লে ঘটে যেতে পারত মারাত্মক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা। উদ্ধার করার পর সাপটিকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এটিএম চত্বর সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ঘোষণা করার পরই হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন ধূপগুড়ির স্থানীয় বাসিন্দা ও পুজোমুখী গ্রাহকরা। তবে এটিএমের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং বন্ধ ঘরে কোথা থেকে এমন বিশাল বিষধর ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে এখনও রীতিমতো তাজ্জব সকলে।

Rick Sarkar
  • Rick Sarkar

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *