পায়ে জুতো নেই, পরনে শাড়ি! ১,৬০০ মিটার খালি পায়ে দৌড়ে সবাইকে স্তব্ধ করলেন এই বিধবা নারী!

আধুনিক ট্র্যাকস্যুট বা দামি রানিং শু— কোনো কিছুরই প্রয়োজন পড়েনি তাঁর। অভাবের তাড়না আর দুই সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার অদম্য ইচ্ছেশক্তিকেই পাথেয় করেছিলেন তিনি। পরনে সাধারণ নীল রঙের শাড়ি, পা খালি। আর সেই অবস্থাতেই স্টেডিয়ামের লাল মাটিতে ১,৬০০ মিটার দৌড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিলেন ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের এক বিধবা নারী, কবিতা কুমারী।
সম্প্রতি হোম গার্ড নিয়োগের ট্রায়াল বা মহড়ায় তাঁর এই অবিশ্বাস্য দৌড়ের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নেটপাড়ায় প্রশংসার ঝড় উঠেছে।
ট্র্যাকস্যুট পরিহিতদের ভিড়ে শাড়ি পরেই লড়াকু সিদ্ধান্ত
ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সোসো গ্রামের বাসিন্দা কবিতা কুমারী। তিন বছর আগে স্বামী দীপক কুমার মাহাতোকে হারিয়েছেন। চরম অর্থকষ্ট, মাথার ওপর ঋণের বোঝা এবং দুই সন্তানসহ বৃদ্ধ শাশুড়িকে সামলানোর দায়িত্ব এখন তাঁর কাঁধেই।
রামগড় স্টেডিয়ামে আয়োজিত ট্রায়াল দৌড়ে যখন অন্য প্রার্থীরা দামী জুতো, ট্র্যাকস্যুট আর জলের বোতল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন, তখন কবিতা সেখানে পৌঁছেছিলেন খুব সাধারণ একটি শাড়ি পরে।
“সবাইকে জুতো আর ট্র্যাকস্যুটে দেখে প্রথমে খুব অস্বস্তি হচ্ছিল। কিন্তু মনে মনে একটাই কথা ছিল— আমাকে এই চাকরিটা পেতেই হবে। চপ্পলটা খুলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে খালি পায়েই দৌড় শুরু করলাম।” — অঝোরে বললেন কবিতা।
১০ মিনিটের রাস্তা পার করলেন মাত্র ৬-৮ মিনিটে!
মহিলা পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ১০ মিনিটে ১,৬০০ মিটার দৌড় শেষ করতে হয়। সেখানে কোনো প্রফেশনাল ট্রেনিং বা পরিকাঠামো ছাড়াই কবিতা খালি পায়ে সেই দূরত্ব পার করলেন মাত্র ৬ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে, যা ‘এক্সিলেন্ট’ ক্যাটাগরিতে গণ্য হয়েছে! তাঁর দৌড় শেষ হতেই পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে।
অভাবকে হার মানানো এক সংগ্রামের গল্প
সংসারের খরচ আর দেনা মেটাতে দিনে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করেন কবিতা। কিন্তু সরকারি চাকরির স্বপ্ন তিনি ছাড়েননি। প্রতিদিন ভোর ৪টেয় উঠে খালি পায়ে শাড়ি পরেই গ্রামের মেঠো রাস্তায় অনুশীলনে নেমে পড়তেন। ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডে ২৮৪টি পদের জন্য আগামী দিনে শারীরিক পরীক্ষা রয়েছে, যার ৫০% আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
একটি সরকারি ইউনিফর্ম আর শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় লড়ে যাওয়া কবিতার এই অদম্য জেদ প্রমাণ করে দিল— জয়ের জন্য দামি পোশাক বা সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না, আসল জোর থাকে ইচ্ছাশক্তিতে!